Breaking News

সমস্ত বুথে চাই কেন্দ্রীয় বাহিনী- বালুরঘাটে প্রশিক্ষণ বয়কট করল ভোট কর্মীরা

সংবাদ সারাদিন, বালুরঘাট: জেলার প্রত্যেক বুথেই থাকতে হবে কেন্দ্র বাহিনীকে। এই দাবিতে রবিবার দুপুরে বালুরঘাট গার্লস কলেজে শতাধিক ভোট কর্মী বিক্ষোভ দেখান। এমনকি কিছুক্ষণের জন্য প্রশিক্ষণও বয়কট করেন ভোট কর্মীরা। যদিও প্রশাসনিক আধিকারিকদের নির্দেশে ফের প্রশিক্ষণে যান ভোট কর্মীরা। তবে বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনী না থাকলে ভোট কর্মীরা ভোট কেন্দ্রে যাবেন কিনা তা ভেবে দেখবেন।

প্রসঙ্গত, ভোট ও গণনার কথা শুনলেই গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা মনে ভেসে ওঠে ভোট কর্মীদের। কি রকম ভাবে জীবন সংশয়ের মধ্যেই ভোট কর্মীরা কাজ করেছেন এবং জীবন নিয়ে বাড়ি ফিরে এসে সকলের মন্তব্য ছিল চাকরি গেলে যাক তবে আর ভোটের ডিউটি করবেন না। এবার লোকসভা নির্বাচন। আগামী ২৩ এপ্রিল ভোট ও ২৩ মে গণনা। এবারের নির্বাচনেও কি সেই একই অভিজ্ঞতার স্বীকার হতে হবে? এবারও কি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভোটের ডিউটি করাতে হবে? এই প্রশ্ন এখন ভোট কর্মীদের মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে।

এরই মাঝে রবিবার প্রশিক্ষণ নেওয়ার সময় প্রত্যেক বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনীর দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ দেখাল শতাধিক ভোট কর্মী। এদিন এই দাবিতে প্রশিক্ষণ বয়কট করেন ভোট কর্মীরা। আগামী ২৩ এপ্রিল বালুরঘাট লোকসভা কেন্দ্রের ভোট। বালুরঘাট লোকসভার ১৫৩০টি বুথের মধ্যে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার অধীনে রয়েছে ১৩০৫টি বুথ। বাকি বুথ উত্তর দিনাজপুরের ইটাহারে।

দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার ভোট কর্মীদের জেলার বালুরঘাট গার্লস কলেজ, বালুরঘাট হাইস্কুল এবং বুনিয়াদপুরের নারায়ণপুর হাই স্কুলে প্রশিক্ষণ চলছে। সপ্তাহখানেক আগে প্রথম দফায় প্রশিক্ষণ শেষ হয়েছে। এদিন দ্বিতীয় দফা প্রশিক্ষণের সময় বালুরঘাট গার্লস কলেজে প্রশিক্ষণরত প্রায় ১৫০ জন সরকারি কর্মী ও শিক্ষকদের অধিকাংশ ভোট কর্মী নিরাপত্তার প্রশ্ন তুলে প্রশিক্ষণ কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান। প্রশিক্ষণ বয়কটের ঘটনায় অস্বস্তিতে পড়ে প্রশাসনিক কর্তারা। বারবার ভোট কর্মীদের মাইকে ডাকা হলেও কয়েক জন ব্যতীত অধিকাংশ ভোট কর্মী এদিন প্রশিক্ষণ নিতে চাননি কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর দাবিতে।

এবিষয়ে ভোট কর্মী বিপ্লব পাল জানান, বিগত পঞ্চায়েত নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে এবারে প্রত্যেক বুথে কেন্দ্র বাহিনী তথা সিআরপিএফ জওয়ানের দাবি জানিয়েছেন তারা। কেন্দ্র বাহিনী না থাকলে প্রাণ সংশয়ে ভোট কেন্দ্রে যেতে হবে তাদের। আগামীতে সকলে মিলে সিদ্ধান্ত নেবেন। পাশাপাশি তাদের কোনও কথায় আমল দেননি জেলা প্রশাসনিক আধিকারিকরা।

অন্যদিকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা জেলার অতিরিক্ত জেলা শাসক(সাধারণ) কৃত্তিবাস নায়েক জানান, এদিন যারা ভোটের প্রশিক্ষণ নেন নি তাদের পরবর্তীতে আবার প্রশিক্ষণ নিতে হবে, নচেৎ তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।