Breaking News

ইদ উৎসবে রাজনীতির সম্পর্ক ভুলে মালদায় মেলবন্ধনে মিশে একাকার গনিখানের পরিবার

সংবাদ সারাদিন, মালদা: রাজনীতির ময়দানে এক ইঞ্চিও ছেড়ে কথা হয় না মামা, ভাগ্নির। এমনকি রাজনীতির লড়াইয়ে ভাই-বোনের সম্পর্ক যেন সাপে-নেউলে। কিন্তু সম্প্রতীর ইদ উৎসবে রাজনীতির গোলমেলে সম্পর্ক ভুলে মেলবন্ধনে মিশে একাকার গনিখান চৌধুরীর পরিবার। সোমবার ইদের উৎসবের দিন কোতুয়ালির গনিখানের ভবনে কংগ্রেসী মামা এবং তৃণমূলী ভাগ্নি। আবার কংগ্রেসী দাদা ও তৃণমূলী বোন একযোগে সামিল হয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করলেন। একসঙ্গে নমাজ পাঠ, আল্লাহের কাছে দোয়া করে খানাপিনায় সামিল হলেন সবাই।

এদিন সকালে কোতুয়ালি ভবনে ইদ উৎসবে সামিল হয়েছিলেন দক্ষিণ মালদার কংগ্রেস সাংসদ তথা প্রদেশ কংগ্রেসের কার্যকরী সভাপতি আবু হাসেম খান চৌধুরী (ডালু) । ছিলেন তার স্ত্রী রুথ খান চৌধুরী, কংগ্রেস বিধায়ক ছেলে ইশা খান চৌধুরী। একই সঙ্গে হাজির ছিলেন তৃণমূলের জেলা সভানেত্রী তথা প্রাক্তন সাংসদ মৌসম নুর। ছিলেন মৌসুমের দিদি সায়েদা সালেহা নুর খানচৌধুরী। তৃণমূল জেলা সভানেত্রী মৌসম নুরের দিদি সায়েদা সম্পর্কে ইশা খান চৌধুরীর স্ত্রী। এদিনের ঈদ উৎসবে বাড়ির বড়দের সঙ্গে সামিল হয়েছিল মৌসুম নূরের দুই ছেলে আইমান নুর এবং আমাইরা নুর । দু’জনেরই বয়স ছয় এবং দশ বছর। কলকাতার একটি নামজাদা ইংরেজি মাধ্যমে মৌসুমীর দুই ছেলে পাঠরত ইদের ছুটিতে তারা এসেছে বড়দের সঙ্গে উৎসবে সামিল হতে।

এদিন সকাল থেকেই গনি পরিবারের সদস্যরা ইদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। পাশাপাশি কোতোয়ালিতে সকাল থেকে ভিড় করেছিলেন বহু দুস্থ মানুষেরা। তাদেরকে কবজি ডুবিয়ে খাওয়ানোর ব্যবস্থা করা হয়। এমনকি চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী কংগ্রেস-তৃণমূলের মামা, ভাগ্নি ভাই-বোনেরা একসঙ্গে বসে দুপুরের মধ্যাহ্নভোজে সারেন। অবশ্যই এই মধ্যাহ্নভোজে মালদার প্রসিদ্ধ আম, রকমারি মিষ্টি ছাড়াও মেনুতে বিভিন্ন রকমের খাবার রাখা হয়েছিল।

উল্লেখ্য, এবারের লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেসী মামা ডালুবাবু এবং তার ছেলে ঈসা খান চৌধুরীর সঙ্গে রাজনৈতিক লড়াই চরমে উঠেছিল তৃণমূল জেলা সভানেত্রী মৌসম নুরের। উত্তর মালদার তৃণমূল প্রার্থী হয়েছিলেন মৌসম নুর। প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ছিল তার দাদা কংগ্রেস প্রার্থী ঈশা খান চৌধুরী। এক ইঞ্চিও জমি ছাড়া তো দূরের কথা রাজনীতি লড়াইয়ে কেউ কাউকে সমালোচনা করতে এতটুকুও পিছপা হন নি।

যদিও ভাই বোনের এই লড়াইয়ে আখের জয় লাভ করে বিজেপির প্রার্থী খগেন মুর্মু। এত কিছুর পরেও রাজনীতির ময়দানের বাইরে গনি খান চৌধুরীর পরিবারের সকল সদস্যকে একসঙ্গে ইদের উৎসব পালন করতে দেখা যাবে। তা সত্যি সম্প্রতি নতুন মেলবন্ধন তৈরি করে দেয়।

কংগ্রেস বিধায়ক ইশা খান চৌধুরী বলেন, রাজনীতি-রাজনীতির জায়গায়। ভাই-বোনের সম্পর্ক কখনই চিড় ধরতে পারে না। আবার নির্বাচন আসবে, আবার লড়াইয়ে হবে। রাজনীতির স্বার্থে দলের হয়ে লড়াই করব। কিন্তু নিজেদের পরিবারে ইদের উৎসবে সামিল হয়ে আনন্দ এবং শুভেচ্ছা বিনিময় করাটা বরাবরই হয়ে এসেছে মামা গনি খান চৌধুরী পরিবারে।

কংগ্রেস সাংসদ ডালুবাবু বলেন, প্রতিবছরই নিজেদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে একে অপরের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করি। এ আর নতুন কি। রাজনীতির প্রসঙ্গ কোন ভাবেই এদিন অন্তত কানে তুলি না। একসঙ্গে নামাজ পড়া থেকে খানাপিনা সবই চলে আনন্দের সঙ্গে। ছোট দুই নাতির সঙ্গে সময় কাটায়।

তৃণমূলের জেলা সভানেত্রী মৌসুম নূর বলেন, উৎসবের সঙ্গে রাজনীতির সম্পর্কগুলিয়ে দিলে হবে না। এদিন মামা, দাদা, বোন সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে ইদের উৎসব পালন করেছি। সঙ্গে আমার দুই ছেলেও ছিল। ওরাও খুব আনন্দ করেছে । সবাইকে একসঙ্গে পেয়ে এরকম আনন্দ এবং শুভেচ্ছা বিনিময় করার সময় হয়ে ওঠে না। খুব ভাল লেগেছে, একসঙ্গে পরিবারের সকল সদস্যরা এদিন সময় কাটাতে পেরেছি। রাজনীতির ময়দানে যাই হোক না কেন, পরিবারের সকলেই যেন ভাল থাকে এই কামনাই করেছি।

error: Content is protected !!