Breaking News

জঞ্জলের ভেতরে স্কুল, দাপিয়ে বেড়ায় কীটপতঙ্গ ও বিষধর সাপ- আতঙ্ক মালদার ২টি স্কুলে

সংবাদ সারাদিন, মালদা: ভবনটি যে একটি স্কুল তা হয়ত বোঝায় যেত না, যদি সেখানে নীল সাদা রঙ থাকত। বিদ্যালয়ের এলাকা জুড়ে কখনও দিঘির মত জল দেখা যায়, আবার জল নেমে গেলে জঙ্গলে ভরা মাঠ দেখা যায়। সেই মাঠের মধ্যে দাপিয়ে বেড়ায় কীটপতঙ্গ পোকামাকড়। প্রায় প্রতিদিনই স্কুল শিক্ষকসহ ছাত্রীদের দেখা মিলছে কীটপতঙ্গ ও বিষধর সাপের। দীর্ঘদিন ধরে স্কুল ক্যাম্পাসটির মধ্যে জল জমে থাকায় ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ এবং জন্মাচ্ছে ডেঙ্গু মশা। আর এই মশাদের আতর ঘরের মধ্যেই নিয়মিত ক্লাস করছে মালদা শহরের দুটি স্কুলের পড়ুয়ারা।

মালদার ইংরেজবাজার শহরের দুই নম্বর গভমেন্ট কলোনির রামকিঙ্কর বালিকা বিদ্যাশ্রম ও দু’নম্বর গভমেন্ট কলোনি গার্লস প্রাথমিক স্কুলের এই সমস্যা দীর্ঘদিনের। এই দুই স্কুলের পক্ষ থেকে ইংরেজবাজার পৌরসভা সহ জেলা শিক্ষা দপ্তর থেকে শুরু করে জেলা প্রশাসনকে একাধিকবার লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। কিন্তু আশ্বাস ছাড়া এখন পর্যন্ত কিছুই মেলেনি তাদের। বেশ কয়েকবার পৌরসভা আধিকারিক ও জেলা প্রশাসনের আধিকারিকেরা পরিদর্শন করে গিয়েছেন কিন্তু সমস্যা সমস্যায় থেকে গেছে কোন সমস্যা সমাধান হয়নি বলে অভিযোগ। অস্বাস্থ্যকর নোংরা পরিবেশে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে ক্লাস করায় পড়ুয়া দের মধ্যে বিভিন্ন রোগ ছড়ানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ডেঙ্গু সহ বিভিন্ন পতঙ্গ বাহিত রোগ ছড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে। এমন সময় চরম সমস্যায় পড়েছে দুই স্কুলের পড়ুয়া সহ শিক্ষক-শিক্ষিকারা।

ইংরেজবাজার পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ২ নম্বর গভমেন্ট কলোনি এলাকায় রয়েছে রামকিঙ্কর বালিকা বিদ্যাশ্রম ও দুই নম্বর গভমেন্ট কলোনি গার্লস প্রাথমিক বিদ্যালয়। দুটি স্কুলের আলাদা ভবন থাকলেও একটি ক্যাম্পাসের মধ্যে রয়েছে দুটি স্কুল। সকালে ক্লাস হয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের। প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে প্রায় ৪২১ জন পড়ুয়া ও রামকিঙ্কর উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে প্রায় ৮৫৫ জন পড়ুয়া। স্কুল ভবনের সামনে বিশাল খেলার মাঠ রয়েছে। সেখানেই দুই স্কুলের পড়ুয়ারা ক্লাসের অবসর সময়ে খেলাধুলো করত। কিন্তু বর্তমানে এই এলাকায় নিকাশি ব্যবস্থা বেহাল হয়ে পড়ায়, একটু বৃষ্টি নামতেই জল জমে থাকে ও সাথে এলাকার যত নোংরা আবর্জনা জলের সাথে এসে পৌঁছায় স্কুল ক্যাম্পাসের। এর ফলে শ্রেণিকক্ষে জল ঢুকে যায় বেড়ে যায় সাপ সহ কীটপতঙ্গের উপদ্রব। এমত অবস্থায় বন্ধ করে দিতে হয় স্কুল।

প্রাথমিক স্কুলের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক শুভেন্দু চন্দ্র দাস বলেন, “আমাদের স্কুলের এই সমস্যা দীর্ঘদিনের।বছরে প্রায় আট মাস স্কুল ক্যাম্পাসে জল জমে থাকে। আমরা এই বিষয়টি স্কুল শিক্ষা দপ্তরের থেকে শুরু করে পৌরসভাকে লিখিতভাবে বারংবার জানিয়েছি, কিন্তু এখনো কেউই সমস্যার সমাধানের উদ্যোগ নেয়নি।’

এদিকে রামকিঙ্কর বালিকা বৃদ্ধাশ্রম এর প্রধান শিক্ষিকা অদিতি ভট্টাচার্য্য জানান, “দু’মাস হল এই বিদ্যালয়ে যুক্ত হয়েছে। কিন্তু এসে দেখি চরম দূর্ভোগ স্কুলের। আমি নিজেই শিক্ষা দপ্তরে জানিয়েছি পরিস্থিতি দেখে এবং তারা এসে ভিজিট করে গেছেন। কিন্তু কোন সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ দেখছি না এখন পর্যন্ত। এরপরে হয়ত আমাদের আন্দোলনের পথেই নামতে হবে পড়ুয়াদের নিয়ে। এরই মধ্যে বেশকিছু পড়ুয়া সহ শিক্ষিকারা আক্রান্ত হয়েছে পতঙ্গ বাহিত রোগে। কত দিনে সুরাহা হবে সেই আশায় পড়ুয়ারাও।”