Breaking News

কেবিসি’র তৃতীয় ক্রোড়পতি পুরুলিয়ার গৌতম, পুরস্কারের টাকা দান করতে চান দুস্থ পড়ুয়াদের

সংবাদ সারাদিন, ওয়েবডেস্ক: কথায় আছে সফল পুরুষের পেছনে থাকে মহিলার হাত। সেই কথাই যেন সত্যি হল ক্যুইজ শো ‘কৌন বনেগা ক্রোড়পতি ১১’তে। পুরুলিয়ার রেলশহর আদ্রার সিনিয়র সেকশন ইঞ্জিনিয়ার গৌতম কুমার ঝা তাঁর স্ত্রীর ইচ্ছা ও অনুপ্রেরণাতেই বিগ বি’র সামনে হট সিটে বসেছিলেন। ভেবেছিলেন অমিতাভের সঙ্গে দেখা হবে, এই যথেষ্ট। কিন্তু তিনি যে ক্রোড়পতি হয়ে যাবেন, তা বোধহয় ভাবেননি। কিন্তু মিরাকল ঘটিয়ে, ১৫ প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিয়ে জিতে নিলেন এক কোটি টাকা। ‘কৌন বনেগা ক্রোড়পতি ১১’তে ইনি তৃতীয় জন যিনি কোটি টাকার মালিক হলেন।

গত বুধবার এই জনপ্রিয় ক্যুইজ শো সম্প্রচার হতেই শুভেচ্ছার বার্তায় ভেসে যান গৌতম ঝা। কোটি টাকা জেতার পর ‘ওয়াগেন এক্সপার্ট’ গৌতম জানিয়েছেন, পুরস্কারের টাকার একটা বড় অংশ তিনি দুস্থ পড়ুয়াদের লেখাপড়ার কাজেই খরচ করতে চান। আদ্রার ডিআরএম নবীন কুমার বলেন, “ওই আধিকারিক রেলকে গর্বিত করেছেন। আমরা ডিভিশনের তরফে তাঁকে সম্বর্ধনা দেব।” যদিও তিনি এও বলেছেন স্ত্রী শ্বেতা ঝা পাশে না থাকলে আজ তিনি এই জায়গায় পৌঁছতেই পারতেন না।

দক্ষিণ পূর্ব রেলওয়ের পুরুলিয়ার আদ্রা ডিভিশনে সেই ২০১৬ সালের জুলাই মাসের শেষ থেকে সিনিয়র সেকশন ইঞ্জিনিয়ার পদে রয়েছেন বছর তিরিশের গৌতম। ছোটবেলা থেকেই বিভিন্ন বিষয়ের দিকে ঝোঁক তার। তাই স্ত্রী শ্বেতা সবসময় তাঁকে ‘কৌন বনেগা ক্রোড়পতি ১১’তে অংশ নিতে বলতেন। গিন্নির কথামতোই নাম কেবিসিতে নথিভুক্ত করেন গৌতম। অডিশনের পর সুযোগও পান। তারপর ধাপে-ধাপে উত্তীর্ণ হয়ে গত ৪ ও ৫ অক্টোবর একেবারে এই ক্যুইজ শোয়ের সঞ্চালক সুপারস্টার অমিতাভ বচ্চনের মুখোমুখি।

১৪ নম্বর প্রশ্নে উত্তর দিয়ে পঞ্চাশ লাখ টাকা জিতে যখন ১৫ নম্বর প্রশ্নে এক কোটি টাকা জয়লাভের মুখে দাঁড়িয়ে। তখন এই ক্যুইজ শোতে থাকা তাঁর চারটি লাইফ লাইনের মধ্যে একটিও বেঁচে নেই। সেই সময়ই প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন বিগ বি। “আমেরিকার কবি ফ্রান্সিস স্কট ভারতীয় জাহাজে বসে ‘ডিফেন্স অফ ফোর্ট এম হেনরি’ নামে একটি কবিতা লিখেছিলেন, যা ওই দেশের জাতীয় সংগীত হয়ে যায়। সেই জাহাজের নাম কি?” প্রশ্ন কানে আসতেই তার সামনে ভেসে আসে চারটি অপশন। মৃদু হেসে ‘এইচএমএস মিনডন’-এ বাটন টিপতেই এক কোটির মালিক হয়ে যান গৌতম বাবু। দু’হাতে তুলে বিগ বি-ও বলে ওঠেন, ‘এক ক্রোড়’।

ক্রোড়পতি গৌতম বলেন, “শ্বেতার জন্যই এই সাফল্য। ও কেবিসিতে মুগ্ধ। সবসময় আমাকে বলত নিজের এত সাধারণ জ্ঞান, কিছু করে দেখাও না। কেবিসিতে অংশ নাও। তারপর সব কিছু স্বপ্নের মত।” তবে ওই শোয়ে সাত কোটির জন্য বিগ বি প্রশ্ন করেন। কিন্তু উত্তর নিয়ে সন্দেহ থাকায় তিনি সেখানেই ক্যুইজের খেলা থামিয়ে দেন।

বিহারের মধুবনির বাসিন্দা রেলের এই আধিকারিক রেলশহর আদ্রার লোয়ার বেনিয়াশোলে থাকেন। ওয়াগন বিভাগের বাস্তুকার হওয়ায় তিনি রেলশহরে ‘ওয়াগন এক্সপার্ট’ নামে পরিচিত হয়ে ওঠেন। উত্তরাখণ্ডের টেকনিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিটেক। তারপর ঝাড়খণ্ডের ধানবাদে ইন্ডিয়ান স্কুল অফ মাইনস থেকে এমটেক করে ২০১৬ সালের জুলাইয়ে আদ্রায় রেলের ওয়াগন বিভাগে যোগ দেন। তার আগে একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক কাজ করতেন। চরম ব্যস্ততার মধ্যে এখনও প্রতিদিন তিনি চারটি সংবাদপত্র খুঁটিয়ে পড়েন। তাই সমস্ত সাম্প্রতিক ঘটনাবলিই তাঁর মগজে। এমনই দাবি ক্রোড়পতি গৌতমের।(তথ্য সৌজন্যে: প্রতিদিন)