Breaking News

‘ড্রেস কোড’ মানেনি, শাস্তি দিতে ছাত্রীদের প্যান্ট খুলে নেওয়া হল বোলপুরের বেসরকারি বিদ্যালয়ে

সংবাদ সারাদিন, বোলপুর: ‘ড্রেস কোড’ মানেনি, তাই ছাত্রীদের প্যান্ট খুলে নেওয়া হল। এই ঠাণ্ডায় প্রথম ক্লাস থেকে শেষ ক্লাস পর্যন্ত কয়েক ঘণ্টা প্যান্ট না পরেই ক্লাসে বসে থাকে ছাত্রীরা। সোমবার ঘটনাটি ঘটেছে বোলপুরের বেসরকারি সেন্ট টেরেসা বিদ্যালয়ে। এই বিষয়ে মঙ্গলবার সকালে বিদ্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ দেখায় অবিভাবকরা।

তাদের অভিযোগ, সোমবার শান্তিনিকেতন থানাতে তারা গিয়েছিলেন অভিযোগ করতে। সেই খবর পেয়ে থানায় পৌঁছে যায় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও । পরে অধ্যক্ষ ক্ষমা চেয়ে নেন। ফলে পুলিশ আর কোন ব্যবস্থা নেয়নি।

বোলপুরের নামি বিদ্যালয়গুলির মধ্যে অন্যতম সেন্ট টেরেসা। অবিভাবকদের অভিযোগ, সোমবার প্রথম শ্রেণি থেকে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত বেশকিছু ছাত্রী ঠাণ্ডার জন্য লেগিন্স প্যান্ট পরে যায়। বিদ্যালয়ের ড্রেস কোড কেন মানা হয়নি ক্লাস টিচার জানতে চান।

এর কোন সদুত্তর ছাত্রীরা দিতে না পাড়লে ক্লাস টিচার প্রথমে বিষয়টি বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষকে জানান। অভিযোগ অধ্যক্ষের নির্দেশ মত, যেসব ছাত্রী লেগিন্স প্যান্ট পরে এসেছিল তাদের প্রত্যেকের প্যান্ট খুলে দেয় ক্লাস টিচার স্কুল শেষ না হওয়া পর্যন্ত ক্লাসে বসিয়ে রাখা হয়।

এই ঠাণ্ডার মধ্যে এই ছোটছোট ছাত্রীদের বাধ্য করা হয় ক্লাসে বসে থাকতে। এদিকে এই বিষয়টি জানতে পেরে ক্ষোভে ফেটে পড়েন অবিভাবকরা। তারা অভিযোগ করেন, লেগিন্স পরা যাবে না বা ড্রেস কোড নিয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কোন নোটিফিকেশন দেননি। তাহলে অবিভাবকেরা কোনদিন লেগিন্স পরিয়ে পাঠাতেন না।

এই বিষয়ে রাজেশ শর্মা নামে এক অবিভাবক বলেন, বেলা দু’টোর সময় বাড়িতে গিয়ে দেখি মেয়ে প্যান্ট পরে নেই। মেয়ের কাছে এই বিষয়ে জানতে চাইলে সে বলে ক্লাস টিচার তার প্যান্ট খুলে নিয়েছে এবং তাকে প্যান্ট খোলা অবস্থায় বাড়ি পাঠানো হয়েছে। এটা কি শিক্ষা?
একই বক্তব্য অবিভাবক বান্টি শর্মার, তিনি বলেন, “লেগিন্স পরে যেতে পারবে না। এই নিয়ে কোন নোটিফিকেশন করেনি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। আমার মেয়ে ভিতরে কোন প্যান্ট পড়ে যায়নি, তারপরেও ওর প্যান্ট খুলে নেওয়া হয়েছে। প্রথম ক্লাস থেকে শেষ ক্লাস পর্যন্ত মেয়ের প্যান্ট খুলে রাখা হয়েছিল। আমাদের দাবি অধ্যক্ষকে বিদ্যালয় থেকে সরাতে হবে।”

সোমবার ঘটনার পর কিছু অবিভাবক শান্তিনিকেতন থানায় অভিযোগ জানাতে যান। এই খবর পয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও থানায় পৌঁছে যান। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে পুলিশ সব জানার পরেও কেন এই বিষয়ে ব্যবস্থা নিল না?

এই বিষয়ে সেন্ট টেরেসা বিদ্যালয়ের পক্ষে শিক্ষক জাহীর আলী মণ্ডল বলেন, অবিভাবকরা বিদ্যালয়ে এসে একটি অভিযোগ করেছেন। কর্তৃপক্ষ বিষয়টি দেখছেন। বিদ্যালয়ের একটি ড্রেস কোড আছে, কিছু ছাত্রী সেই ড্রেস কোডের বাইরে ড্রেস পরে এসেছিল। তাই তাদের বলা হয়েছিল ড্রেসটা পরিবর্তন করার জন্য। ড্রেস কোড মৌখিকভাবে একটি নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। কিছু মানুষ বিদ্যালয়ের সুনাম কলঙ্কিত করতে চাইছে।