Breaking News

অকালমৃত্যু আরও এক সিঙ্গলস্ক্রিনের, বন্ধ হয়ে গেল ধর্মতলার ঐতিহ্যবাহী রক্সি

সংবাদ সারাদিন, ওয়েবডেস্ক: মাল্টিপ্লেক্সের জমানায় একের পর এক অকালমৃত্যু হচ্ছে সিঙ্গলস্ক্রিনগুলির। মেট্রো, এলিট, মিত্রার পর এবার পালা রক্সির। বৃহস্পতিবার থেকে পাকাপাকিভাবে বন্ধ হয়ে গেল ধর্মতলার রক্সি সিনেমাহল। আজ, বৃহস্পতিবারই এখানে শেষ সিনেমা দেখানো হল।

কলকাতার সিঙ্গলস্ক্রিনগুলির দরজা বরাবরের মত বন্ধ হওয়া শুরু হয়ে গিয়েছে অনেকদিন আগে থেকেই। কোনও কোনও সিনেমাহলে এখন তৈরি হয়েছে মাল্টিপ্লেক্স, কোনওটাতে আবার হয়েছে মাল্টি স্টোরেড বিল্ডিং। এই দ্বিতীয় বিভাগেই সম্ভবত পড়তে চলেছে রক্সি। বছর তিন-চার আগেই এই সিঙ্গলস্ক্রিনটি ভেঙে ফেলার নির্দেশ এসেছিল।

কিন্তু সেবার ভাগ্য সহায় হয়েছিল রক্সির। কিন্তু এলিট সিনেমা বন্ধের পর থেকেই আশঙ্কা চেপে বসে রক্সির কর্মীদের মনে। কিন্তু হাজার আশঙ্কা ধুলোয় মিশিয়ে ধিকধিক করে জ্বলতে থাকে রক্সির প্রদীপ। মাল্টিপ্লেক্সের রমরমা বাজারে রক্সির মতো সিঙ্গলস্ক্রিনগুলি বেশিরভাগ দর্শকাসনই থাকত ফাঁকা। ব্যবসায় লাভের মুখ দেখা তো দূরের কথা, ক্ষতিতেই চলছিল রক্সি।

তাই শেষমেশ এই সিঙ্গলস্ক্রিনটি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিল কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার তার শেষ শো প্রদর্শিত হল। কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে, মাল্টিপ্লেক্সের সঙ্গে আজকের প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে সিনেমাহলটি৷ এই প্রেক্ষাগৃহের রক্ষণাবেক্ষণের খরচ বিপুল৷ তাই বন্ধ করে দেওয়া হল রক্সি।

১৯০৮-০৯ সালে যাত্রা শুরু করেছিল রক্সি। তখন অবশ্য সিনেমাহল নয়, রক্সি ছিল অপেরা হাউজ। নাম ছিল এম্পায়ার থিয়েটার। তখন এই সিনেমাওয়ালার ছিল রমরমা বাজার। চারের দশকে এম্পায়ার থিয়েটার নাম বদলে হয়ে যায় রক্সি। এখানে প্রথম ছবি ছিল অশোক কুমার অভিনীত ‘নয়া সংসার’।

ঐতিহ্যশালী এই সিনেমাহলটির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে সুভাষচন্দ্র বসুর নামও। ১৯৪৩ সালে রক্সিতে ছবি দেখতে গিয়েছিলেন নেতাজি। তখন সেখানে ‘কিসমৎ’ চলছিল। এমন একটি ঐতিহাসিক সিনেমাহল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মন খারাপ সিনেপ্রেমীদের। অনেকে মাল্টিপ্লেক্সের থেকেও এইসব সিঙ্গলস্ক্রিনে সিনেমা দেখতে যেতে পছন্দ করত। অবশ্য রক্সি ফের খোলার আশা যে একেবারই নেই, তা নয়। বহুদিন বন্ধ থাকার পর খুলেছিল মালঞ্চ। রক্সির ভাগ্যেও শিকে ছিঁড়বে কিনা, সেটাই এখন দেখার।(তথ্য সৌজন্যে: প্রতিদিন)