Breaking News

করোনা আতঙ্কের জেরে মৃতদেহ সৎকারে সমস্যা, বালুরঘাটে অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়াল DYFI

সংবাদ সারাদিন, বালুরঘাট: গোটা বিশ্ব জুড়ে এখন চিন্তার একমাত্র কারণ করোনা ভাইরাস। একই চিত্র ভারতবর্ষ জুড়েও। তাই দেশের প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, সকলের মাঠে নেমে পড়েছেন করোনা মোকাবিলায়, নিচ্ছেন একাধিক পদক্ষেপ। সেইমত করোনা মোকাবিলায় দেশ জুড়ে কর্যকরী হয়েছে লকডাউন।

বাড়ি থেকে রাস্তায় পা ফেলা কার্যত বন্ধ রয়েছে সাধারণ মানুষের। আর কখনও ভুল করে রাস্তায় বেরোলেই জুটছে পুলিশি দাণ্ডার আঘাত। আর এমন পরিস্থিতিতে কেউ অন্য কোনভাবে অসুস্থ হলে বা কোন কারণে মৃত্যু হলে, রীতিমত হিমশিম অবস্থা পরিবারের লোকজনের।

এমনই এক দৃশ্য দেখা গেল বালুরঘাটেও। এই চরম পরিস্থিতিতে স্ত্রীর মৃতদেহ সৎকার নিয়ে ব্যাপক সমস্যায় পড়েছিলেন বালুরঘাটের বাসিন্দা অমর বাগচী। স্ত্রী নিশা বাগচীর শেষ যাত্রায় সঙ্গী হতে প্রতিবেশীদের কাউকেই পাশে পেলেন না তিনি। কী করে নিজেরা একা হাতে সব সামলাবেন, ভেবেই মাথায় হাত পড়েছিল অমর বাবুর।

অবশেষে এই অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়াল ডি ওয়াই এফ আই লোকাল কমিটি। তারাই নিজের দায়িত্ব তুলে নেন মৃতদেহ সৎকারের। সিপিএমের এই যুব সংগঠনের কর্মীরা হাসপাতাল থেকে ওই মৃতদেহ নিয়ে গিয়ে শ্মশানে শেষকৃত্য করিয়ে আসে।

এমনকি ওই পরিবারের সরকারি প্রকল্প সমব্যাথির টাকা পাওয়ার আবেদন ইত্যাদিও করে দেন ওই কর্মীরা। এদিকে করোনার মত মহামারি পরিস্থিতির এই দুঃসময়ে ডি ওয়াই এফ আই-এর এমন ভূমিকায় প্রশংসায় পঞ্চমুখ নেটিজেনরা।

শুধু এটুকুই নয়, করোনা প্রতিরোধে রাজ্যে লকডাউন হওয়ার আগের দিন পর্যন্ত ডি ওয়াই এফ আই-এর তরফ থেকে বালুরঘাট শহর জুড়ে হাতে তৈরি স্যানিটাইজারও বিলি করা হয়। শহরের বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে দুই-একজন করে কর্মী দাঁড়িয়ে কয়েক হাজার স্যানিটাইজারের বোতল বিলি করেন।

এছাড়া লকডাউন ঘোষণা হতেই শহরের অসহায় পরিবারগুলির কথা ভেবে কয়েকটি হেল্পলাইন নম্বরও সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন তারা। যাতে সেই নম্বরে ফোন করে কেউ তাদের সমস্যার কথা জানালে তারা সেখানে সেই মানুষটির সাহায্যার্থে এগিয়ে যেতে পারে।

শহরের বেশ কয়েকটি বাড়িতে পানীয় জল, ওষুধ ইত্যাদি যেমন পৌঁছে দেওয়ারও কাজ করছে তারা। ঠিক তেমনিভাবে এবার মৃতদেহ সৎকারের কাজেও এগিয়ে গেলেন ডি ওয়াই এফ আই কর্মীরা।

জানা গিয়েছে, শহরের থানা মোড় এলাকার দোকান কর্মচারী অমর বাগচী মালোপাড়াতে স্ত্রীকে নিয়ে ভাড়াবাড়িতে থাকতেন। গত ২৩ শে মার্চ শ্বাসকষ্ট ও হৃদরোগের সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে ভরতি করা হয়েছিল অমরবাবুর স্ত্রী নিশা দেবীকে। মঙ্গলবার সেখানেই তার মৃত্যু হয়।

একেই লকডাউন, তার উপর করোনা আতঙ্ক, প্রতিবেশীরা কার্যত ওই পরিবারের পাশে দাঁড়াতে রাজিই হননি। ফলে প্রবল সমস্যায় পড়তে হয় বাগচী পরিবারকে। পরিবারে আর তেমন পুরুষ সদস্যও ছিল না। সোস্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা ডি ওয়াই এফ আই সদস্যদের নম্বরে ফোন করে ওই পরিবার।

প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই ডি ওয়াই এফ আই কর্মী সমীরন সাহা, ধিরাজ বসু, দেবব্রত গুহ পৌঁছে যান হাসপাতালে। ওয়ার্ড থেকে মৃতদেহ কাঁধে করে নামিয়ে, শববাহী গাড়ির মাধ্যমে খিদিরপুর শ্মশানে নিয়ে গিয়ে মৃতের পরিবারকে শবদাহ সৎকারে সহায়তা করে।

অমর বাবু জানান, “খুব সমস্যায় পড়েছিলাম। কাউকেই কাছে পাচ্ছিলাম না। হেল্প নম্বরে ফোন করতেই ওই যুব কর্মীরা এসে আমাদের পাশে দাঁড়ায়।”

অন্যদিকে ডি ওয়াই এফ আই নেতা সমিরন সাহা বলেন, “আমরা মানুষের পাশেই রয়েছি। সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা আমাদের হেল্পলাইন নম্বরগুলিতে ফোন করলে যথাসাধ্য চেষ্টা করব সাহায্য করার।”