Breaking News

মহানন্দা নদীর জলস্তর বেড়ে যাওয়ায় চরম বিপাকে চাঁচলবাসী

সংবাদ সারাদিন, চাঁচল: শান্তি মনোরম পরিবেশ, করোনা আবহেও নেই কোনও আতঙ্ক ওই গ্রামে। কারণ গ্রামে নেই হাট-বাজার ও দোকান-পাট। তবে রয়েছে বহু সমস‍্যা দুর্ভোগ। মালদার চাঁচল ১ ব্লকের খরবা গ্রাম পঞ্চায়েত আওতাধীন রয়েছে ভোবানিপুর গ্রাম। এই গ্রামে বর্তমানে চরম সমস্যার মধ্যে দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন বাসিন্দারা।

প্রায় তিনশতাধিক পরিবারের বসবাস ওই গ্রামে। ক্রমশ জল মহানন্দা নদীতে বেড়ে চলাই চরম বিপাকে পড়েছে গোটা গ্রামবাসী। হাট-বাজার, রেশন, পঞ্চায়েত, চিকিৎসা কেন্দ্র থেকে শুরু করে অফিস-আদালত সর্বত্রই নদী পার করেই যেতে হয়। কিন্তু জল বেড়ে যাওয়ায় বর্তমানে সমস্যাটা দ্বিগুণ হয়েছে। তবে ওই গ্রামের বাসিন্দারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার চলে সারাবছর।

খরবা গ্রাম পঞ্চায়েতের খিদিরপুর-ভোবানীপুর ঘাট সংযুক্ত মহানন্দা নদীর উপর কোনও সেতু না থাকায় ভবানিপুর গ্রামের মানুষদের যাতায়াতের প্রধান ভরসা নৌকা। গ্রামের সকলেই প্রতিদিন জীবন-জীবিকার তাগিদে প্রাণের ঝুঁকি নিয়েই কোনও রকম যাত্রী সুরক্ষা ছাড়াই নৌকাতেই পারাপার করেন।

সম্প্রতি ওই এলাকার জগন্নাথপুর নৌকাডুবির মতো ঘটনাও ঘটেছে। কিন্তু বর্তমানে লাইফ জ্যাকেট বা কোনও সুরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়াই নৌকাতেই পারাপার করছেন মানুষ। সূত্র মারফত জানা যায়, খিদিরপুর ঘাটটি পূর্বে পঞ্চায়েত সমিতির আওতায় ছিল। বর্তমানে তা আর ডাক দেওয়া-নেওয়া হয় না। গ্রামবাসীরা নিজেরাই নৌকা ভাড়া করে যাতায়াত করে।

ভোবানিপুর গ্রামবাসীরা জানান, জল বাড়ছে এই আতঙ্কে রয়েছি। এখন হঠাৎ কোনও ব‍্যক্তি অসুস্থ হয়ে পড়লে বা দুর্ঘটনা ঘটলে সঠিক সময়ে নৌকা পাওয়া যায় না। প্রসূতিদের জন‍্যও একি অবস্থা। নৌকা পাওয়া গেলেও নিরাপত্তাহীন ভাবে পারাপার হতে হয়। সুরক্ষা বলতে আমাদের মধ‍্যে কিছুই নেই। অবিলম্বে প্রশাসন যেন সঠিক সময়ে সর্বক্ষণ নৌ-চলাচল ও সুরক্ষার জন‍্য লাইফ জ‍্যাকেট প্রদান করে।” প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তারা। করোনা মহামারীতে সচেতনতার এক নিদারূণ ছবি পাওয়া গেছে ওই গ্রামে। সবাই গ্রামেই আবদ্ধ হয়ে রয়েছে।

গ্রামের মাঝিরা জানান, “যাত্রী সুরক্ষা বিষয়ে প্রশাসনের তরফে তাদের কোনও নির্দেশ বা প্রয়োজনীয় সামগ্রী দেওয়া হয়নি। তিনি দাবি করে বলেন, দূর্ঘটনা যে কোনও সময় ঘটতেই পারে। কিন্তু সাধারণ মানুষের কথা ভেবেই নৌকায় তাদের পারাপার করছেন বলে তিনি জানান।”

চাঁচল ১ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির কৃষি সেচ ও সমবায় দফতরের কর্মাধ‍্যক্ষ সাহাজান আলম জানান, “ওই গ্রামবাসীর যাতায়াতের ভরসা একমাত্র নৌকাই। ‘বিশেষত বর্ষায় নদীতে যখন প্রচুর জল থাকে তখন সমস্যা আরও তীব্র হয়। তবুও প্রাণের ঝুঁকি নিয়েই যাতায়াত করতে হয় তাঁদের। যাত্রীদের সুরক্ষার জন‍্য ও অতিরিক্ত নৌ-ব‍্যবস্থার জন‍্য চাঁচলের মহকুমা শাসকের কাছে একটি স্মারকলিপিও প্রদান করা হয়েছে।”

এবিষয়ে চাঁচলের মহকুমা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই গ্রামের মানুষের নদী পারাপারে সুরক্ষার জন‍্য পযার্প্ত লাইফ জ‍্যাকেট ও সুরক্ষা সামগ্রী দ্রুত ব্লক প্রশাসনের মাধ্যমে দেওয়া হবে।