Breaking News

সেফ হোমের ছাদ থেকে লাফ দিয়ে আত্মঘাতী করোনা রোগী, চাঞ্চল্য বংশীহারীতে

সংবাদ সারাদিন, বংশীহারী: ছাদ থেকে লাফ দিয়ে আত্মঘাতী হলেন সেফ হোমে চিকিৎসাধীন করোনা আক্রান্ত এক ব্যক্তি। শনিবার সকালে চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে বংশীহারী আইটিআই কলেজে। লাফ দেওয়ার বিষয়টি নজরে আসতেই পরে ওই ব্যক্তিকে স্থানীয় রসিদপুর গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। মৃত ব্যক্তির নাম অজিত মাহাতো(৪৩)। বাড়ি ভাইওরে৷ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে মৃতের পরিবারের সদস্যরা। ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে বংশীহারী থানার পুলিশ। গোটা ঘটনা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

জানা গিয়েছে, বংশীহারী ব্লকের হলদি জায়গায় রয়েছে বংশীহারী আইটিআই কলেজ। এই কলেজটি করোনা আক্রান্তের চিকিৎসার জন্য সেফ হোম তৈরি করা হয়েছে। বর্তমানে এই সেফ হোমে বেশ কয়েকজন করোনা আক্রান্তের চিকিৎসা চলছে।

এই সেফ হোমে গত ৬ অগাষ্ট চিকিৎসাধীন ছিলেন। তিনি পেশায় ব্রজবল্লভপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের অস্থায়ী কর্মী। অভিযোগ, বেশ কিছু দিন ধরে মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন অজিতবাবু।

গতকাল গভীর রাত থেকে ওই ব্যক্তি সেফ হোমের শৌচালয় থেকে গোটায় দৌড়াদৌড়ি করতে থাকে। মৃত ব্যক্তিকে কেউ হাসুয়া নিয়ে তারা করছে, এই ভয়েই দৌড়চ্ছিলেন। বিষয়টি নজরে আসতেই সেফ হোমে থাকা আর এক করোনা আক্রান্ত মহিলা এবং সিকিউরিটি গার্ডরা অজিতবাবুকে ভয় পাওয়ার কোন কিছু নেই, কেউ তাকে তাড়া করছে না তা বোঝানোর চেষ্টা করেন।

এদিকে বিষয়টি স্বাভাবিক হওয়ার কিছু পরেই সেফ হোমের সকলের নজর এড়িয়ে ছাদ থেকে নীচে লাফ দেন। সকালে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করে। এদিকে মৃত ব্যক্তি মাদকাসক্ত ছিল। সেফ হোমে নেশার সামগ্রী না পেয়ে আরও মানসিকভাবে উশৃংখল হয়ে পড়েন। এদিকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় বংশীহারী থানার পুলিশ।

এদিকে মৃত ব্যক্তির ভাইয়ের সুশান্ত মাহাতো অভিযোগ, গতকাল তার দাদার সঙ্গে কথা হয়েছিল। সেফ হোমের খাবারের ব্যবস্থা ভাল না। পরিবেশ ভাল না। তাই সেফ হোমে থাকতে পাড়ছে না। এই সব ফোনে জানিয়েছিলেন। রাত পার হতেই সকালেই আজ সেফ হোমে গিয়ে শোনেন তার দাদা ছাদ থেকে লাফ দিয়েছে। গিয়ে দেখার কিছু পরেই মারা যান তার দাদা। সেফ হোমের অব্যবস্থার জন্য আত্মঘাতী হয়েছেন তার দাদা বলে দাবি সুশান্তের।

এবিষয়ে জেলা পুলিশ সুপার দেবর্ষি দত্ত জানান, সেফ হোম থেকে একজন লাফ দিয়ে আত্মঘাতী হয়েছে। তার নাম অজিত মাহাতো। এনিয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করা হয়েছে।