Breaking News

মন্দিরে লিখিত আবেদন করলেই দ্রুত ন্যায় বিচার! হাজির হয় দেবতা!

সংবাদ সারাদিন ডেস্ক : চাকরি, জীবিকা, বিবাদ বা যে কোনও সমস্যা সমাধানের জন্য চিঠি, দরখাস্ত বা প্রার্থনাপত্র জমা দেওয়া হয় মন্দিরে। এতেই নাকি দ্রুত ন্যায় বিচার পাওয়া যায়। ইচ্ছা পূরণ হলেই ফের মন্দিরে গিয়ে ঘণ্টা বেঁধে দেয় শ্রদ্ধাশীল আস্থাভাজন মানুষ। হ্যাঁ, এমনই একটি রহস্যময় মন্দির রয়েছে হিমালয়ের পাদদেশে। ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যের আলমোড়া জেলার চিতই এলাকায়। এই মন্দিরে অধিষ্ঠিত দেবতার নাম গোলু দেবতা। গোলু দেবতা ভগবান শিবের গৌর ভৈরব অবতার হিসাবে পূজিত হন এখানে। স্থানীয় বহু গ্রামের মানুষের কাছে কুল দেবতা হিসাবেও পূজিত হন সাদা ঘোড়ায় চড়া সাদা বসনের এই গোলু দেবতা। মন্দিরের গর্ভগৃহে গোলু দেবতার এই রূপে পাথরের মূর্তির দর্শন মেলে।

শাস্ত্রে আছে শব্দই ব্রহ্ম, শব্দের মধ্যেই বিরাজ করে মন্ত্রশক্তি। তাই বহু যুগ ধরেই লিখিত শব্দের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের এই ধারণা ও বিশ্বাসে গোলু দেবতার মন্দিরে প্রচলিত হয়ে আসছে এই রীতি-রেওয়াজ। যার প্রমাণ রয়েছে মন্দিরের পরতে পরতে। সাদা কাগজেই হোক কিংবা সরকারি স্ট্যাম্প পেপার, বিভিন্ন ভাষায় লেখা হাজার হাজার চিঠি বা প্রার্থণাপত্র ঝুলে রয়েছে মন্দিরের গায়ে। সমস্যার সমাধান যে হয় তারও হাজার হাজার প্রমাণ হিসাবে রয়েছে প্রতিকার পাওয়া মানুষের দিয়ে যাওয়া ঘণ্টা। পাঁচ কুইন্ট্যাল ওজন সহ ছোট-মাঝারি প্রায় সব মাপের ঘণ্টা রয়েছে সেখানে। দিনের যে কোনও সময় মন্দিরে উপস্থিত হলেই দেখা পাওয়া যায় শ্রদ্ধার সঙ্গে আস্থাভাজন মানুষের চিঠি বা ঘণ্টা বাঁধার দৃশ্য। এছাড়াও জনশ্রুতি রয়েছে, লিখিত আবেদন পড়ে স্থানীয় বহু গ্রামে গোলু দেবতার দরবার বসে। সাদা ঘোড়া নিয়ে দরবারে হাজির হন তিনি। সকলের উপস্থিতিতেই ন্যায় বিচার করেন।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, সতিই কি প্রার্থণাপত্র পড়েন গোলু দেবতা? কোনও দেবতার পক্ষে কি হিন্দি, ইংরেজি সহ বিভিন্ন অঞ্চলের ভাষা জানা সম্ভব?এর উত্তর যদি না হয়, তাহলে কিভাবে খুশি হয়ে মন্দিরের গায়ে ধন্যবাদ স্বরূপ ঘণ্টা বেঁধে দিচ্ছেন প্রতিকার পাওয়া আস্থাশীল মানুষ? কিভাবে বছরের পর বছর বেড়ে চলেছে গোলু দেবতার প্রতি বিশ্বাস রাখা মানুষের সংখ্যা? কেনইবা দ্রুত ন্যায় বিচারের জন্য ছুটে আসেন সমস্যায় থাকা মানুষ।
বিজ্ঞান উত্তরাখণ্ডের চিতই গোলু দেবতার এই রহস্যময় মন্দিরের কিনারা করুক বা না করুক, লিখিত আবেদনে মানুষের ভক্তি-বিশ্বাস আর পরম্পরা অনুযায়ী মন্দিরের ঘণ্টার ধ্বনি প্রতিদিন আগত ভক্তদের কাছে সত্যের চেয়েও বেশি সত্য।