Breaking News

ঝাড়গ্রামের গোপীবল্লভপুরে বন্ধ থাকবে ‘ঝাঁপান উৎসব’, জৌলুস ছাড়াই পূজিত হবেন মনসা বুড়ি

সংবাদ সারাদিন, ঝাড়গ্রাম : করোনা আবহে জৌলুস ছাড়াই হবে আশকোলা গ্রামের শতাব্দী প্রাচীন মনসা পুজো। এছাড়া প্রশাসনিক অনুমতি না পাওয়ায় বন্ধ থাকছে ‘ঝাঁপান উৎসব’। ঝাড়গ্রাম জেলার গোপীবল্লভপুর ২ নম্বর ব্লকের আশকোলা গ্রামে পূজিত হয়ে আসছেন মনসা বুড়ি। প্রায় ১০০বছর ও তার আগে থেকে এই পুজোর শুভারম্ভ হয় আশকোলা গ্রামে। আশকোলা গ্রামবাসীবৃন্দের পরিচালনায় হয় এই পুজো।

প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী মনসা বুড়ি পূজার আগে চলে ঝাঁপান খেলা। ঝাঁপান-এর অর্থ সাপের খেলা। ঘট উত্তোলনের পর ঘটের সামনে সাপের খেলা দেখিয়ে দেখিয়া সারা গ্রাম ঘুরে মণ্ডপে পৌঁছান৷ ঝাঁপান খেলা দেখাতে পয়সার বিনিময়ে বাইরে থেকে লোক আনা হয়৷ ঝাঁপান খেলা দেখাতে প্রায় ১০-১৫ টি বিষধর সাপ নিয়ে আসেন ওই ব্যক্তি৷

এই প্রসঙ্গে গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দা বল্লভ বাগ, শশাঙ্ক পাল ও শক্তিপদ পাল’রা বলেন,”এটি আমাদের একটি প্রাচীন রীতি। সাপের খেলা দেখানোর পরই পূজিতা হন মনসা বুড়ি।” বৈকুণ্ঠ দাস নামে একজন ব্যক্তির হাত ধরেই এই পূজার সুত্রপাত হয় এই গ্রামে। ওই ব্যক্তির স্বপ্নাদেশ থেকেই এই পুজো শুরু হয়। ২টি ঘট বসানো হয় এই পুজোয়। কেবলমাত্র আশকোলা গ্রামের পুজোতেই এই রীতি লক্ষ্য করা যায়।

কারণ জানতে চাইলে বৈকুন্ঠ দাসের বংশধর দেবাশীস দাস বলেন, “বৈকুণ্ঠ দাস যখন আশকোলা গ্রামে পুজো শুরু করেন তারপরে একবছর গ্রামের নদী থেকে ঘট তুলে আনার সময় হঠাৎ ভেঙে গিয়েছিল ঘটটি। তখনকার নিয়ম অনুযায়ী সবাই পরামর্শ নিতে যেত চোরচিতা গ্রামের এক মহারাজের কাছে। এবং সেই মহারাজ জানান আপনাদের পুজোতে আপনারা ২টি ঘট তুলবেন ঘট পুজোস্থানে পৌঁছে যাওয়ার একটা মনসা মায়ের ঘট ও আর একটা শিতলা মায়ের ঘট হিসেবে প্রতিস্থাপন করবেন। এই গ্রামের পুজোতে কোনও পুরোহিতের প্রয়োজন হয় না। যাঁরা এই পুজোটি শুরু করেছিলেন তাঁদের পরিবারের সদস্যের হাতেই পূজিতা হন মনসা বুড়ি।”

এই পুজোর সঙ্গে মা লক্ষী ও সরস্বতীও পূজিত হন। কারণ যানতে চাইলে দেবাশীস দাস বলেন, পুজোর ঘট আনতে যাওয়ার আগের দিন রাতে গিয়ে যেই জায়গায় ঘট উঠানো হবে সেই জায়গা টা চিহ্নিত করে রেখে আসতে হয়। এক বছর সেই ঘাট চিহ্নিত করতে যাওয়া গ্রামবাসীর মধ্যে কেউ একজন আমিশ খেয়ে ছিলেন। তারপর থেকেই সেই ভূল স্বরূপ আজও মনসা মায়ের সঙ্গে লক্ষী ও সরস্বতীকেও পুজো করতে হয়। এই পুজো দু’দিন ধরে হয় এবং দ্বিতীয় দিনের পুজোতে সংস্কৃত নিয়ম অনুযায়ী চাল কুমড়ো বলি দেওয়া হয়। এছাড়াও গ্রামের স্থায়ী মণ্ডপে পুজো করার পর প্যান্ডেলে পূজিতা হন মনসা বুড়ি।

গ্রামবাসী অম্বুজ বাগ, বুবুল বাগ ও শিবশঙ্কর দেহুরী’রা বলেন,”গ্রামের ছোট বড় সবাই এই পুজোতে মেতে ওঠে। সাপের খেলা আর পুজো ছাড়াও সন্ধ্যাকালীন বিভিন্ন যাত্রা ও অনুষ্ঠান হয়। পুজোর সময় বাদ দিয়ে এই সময়ই আমাদের গ্রামের সবার বাড়িতে আত্মীয়-স্বজন আসেন।”