Breaking News

শো’কজের জবাবে সন্তুষ্ট নয় জেলা নেতৃত্ব, দক্ষিণ দিনাজপুরে বহিষ্কৃত তৃণমূলের সোনা-দেবা-সুনির্মল

সংবাদ সারাদিন, বালুরঘাট: শোকজ করা দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার তৃণমূল নেতা শুভাশিস পাল ওরফে সোনা পাল, দেবাশিস মজুমদার ও সুনির্মল জ্যোতি বিশ্বাসকে দল থেকে বহিষ্কার করল তৃণমূল। শনিবার বালুরঘাটের দলীয় কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করে তিন তৃণমূল নেতাকে বহিষ্কার করার কথা ঘোষণা করেন তৃণমূলের জেলা সভাপতি গৌতম দাস।

এদিনের সাংবাদিক সম্মেলনে জেলা সভাপতি ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জেলা তৃণমূলের চেয়ারম্যান শংকর চক্রবর্তী, জেলা তৃণমূলের যুগ্ম কো-অর্ডিনেটর সুভাষ চাকি ও ললিতা টিজ্ঞা।

এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে মূলত বর্তমান তৃণমূল সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরেন তৃণমূলের জেলা সভাপতি সহ অন্যান্যরা। পাশাপাশি বিজেপি শাসিত রাজ্যে যেখানে নারীরা অসুরক্ষিত তার তুলনায় পশ্চিমবঙ্গে নারীরা অনেক সুরক্ষিত বলা হয় এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে।

এদিন রাজ্য সরকারের উন্নয়নের খতিয়ান পরিসংখ্যান তুলে ধরে তৃণমূল নেতৃত্ব। এর পাশাপাশি এদিন তৃণমূলের জেলা সভাপতি গৌতম দাস ঘোষণা করেন গত কয়েক মাস আগে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা তৃণমূলের ৪ নেতার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় তাদের শো’কজ করেছিল দল।

চারজনের পক্ষ থেকে শো’কজের উত্তর দেওয়া হয়। যদিও চারজনের মধ্যে একজন কুমারগঞ্জের যুব তৃণমূল নেতা অভিষেক গুহকে দল ক্লিনচিট দেয় এবং তাকে জেলা যুব তৃণমূলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়। বাকি তিন তৃণমূল নেতার শোকজের উত্তর যথাযথ মনে হয়নি দলের কাছে। তাই এদিন পতিরাম পথসাথীতে কোড় কমিটির বৈঠকে তিন নেতাকেই বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেইমত এদিন সাংবাদিক সম্মেলন থেকে তৃণমূল নেতাকে বহিষ্কারের ঘোষণা করা হয়। তবে কত দিনের জন্য বহিষ্কার করা হল তা জানাননি তৃণমূলের জেলা সভাপতি।

এবিষয়ে তৃণমূলের জেলা সভাপতি গৌতম দাস জানিয়েছেন, কয়েক মাস আগে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় জেলা তৃণমূলের চারজন নেতাকে শো’কজ করা হয়েছিল। তার মধ্যে একজনের শো’কজের উত্তর যথাযথ মনে হয়েছে। বাকি তিনজন শুভাশিস পাল ওরফে সোনা পাল, দেবাশিস মজুমদার ও সুনির্মল জ্যোতি বিশ্বাসের শো’কজের উত্তর যথাযথ মনে হয়নি দলের কাছে। তাই দলের পক্ষ থেকে তাদের বহিস্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে বহিষ্কৃত তৃণমূল নেতা শুভাশিস পাল জানান, তিনি মুখ্যমন্ত্রীর আদর্শে অনুপ্রাণিত। তিনি আগেও তৃণমূল করতেন এখনও তৃণমূল দলই করেন। তাকে কে কোথা থেকে বাদ দিল তা নিয়ে তার কোন মাথাব্যথা নেই। পাশাপাশি তিনি আরো বলেন যখন বিজেপির দখলে চলে গিয়েছিল জেলা পরিষদ তখন তা আটকিয়েছিল সোনা পাল। বর্তমানে যারা দলে রয়েছে তারা হিলি থেকে গোটা জেলায় তোলা তুলতেই ব্যস্ত।