Breaking News

বনেদি বাড়ির পূজার মধ্যে অন্যতম বালুরঘাট সাহা বাড়ির দুর্গাপূজা, পদার্পণ করল ১৮০ বছরে

সংবাদ সারাদিন, বালুরঘাট: করোনার জেরে এবছর বালুরঘাটের সাহা বাড়ির দুর্গা পুজোয় করা হচ্ছে না কোনওরকম কাঁটছাট। শুধুমাত্র দর্শনার্থীদের জন্য থাকছে একাধিক নিয়ম৷ বনেদি বাড়ির পূজার মধ্যে বালুরঘাটের সাহা বাড়ির পূজা অন্যতম। এবারে এই পুজো ১৮০ বছরের পা দিল। এই পূজার প্রতিষ্ঠাতা বনমালী সাহা রায়। তিনি বাংলাদেশের পাবনা জেলার জামাত্তার বাসিন্দা ছিলেন।

বাংলাদেশ থেকে তিনি জল পথে বালুরঘাটে ব্যবসা করতে এসে স্বপ্নাদেশ পেয়ে বালুরঘাটের বিশ্বাসপাড়া এলাকায় মা দুর্গার পুজো শুরু করেন। সেই থেকে সাহা বাড়িতে দেবী দুর্গার পুজো হয়ে আসছে। বর্তমানে ওনার উত্তরসূরি কালীকৃষ্ণ সাহা রায় এই পূজা করে আসছেন। আর পাঁচটা দুর্গা পূজার থেকে সাহা বাড়ির দুর্গার মূর্তি একদম আলাদা।

এখানে দেবী দুর্গার স্থান অপরিবর্তিত থাকলেও গণেশ ও কার্তিকের স্থান পরিবর্তন হয়েছে। দুর্গার ডান দিকের বদলে বাম দিকে থাকে গণেশ। আবার ঠিক বাম দিকে কার্তিকের থাকার কথা থাকলেও দুর্গার ডান দিকে থাকে। এছাড়াও বংশ পরমপরা অনুসারে পুরোহিতরাও পূজা করে আসছেন, মৃৎশিল্পীরা তেমনি প্রতিমা করে আসছেন। তবে এবার করোনা ও লকডাউনের জন্য সামাজিক স্বাস্থ্যবিধি মেনেই পুজোর আয়োজন করছেন সাহা পরিবার৷

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, বনমালী সাহা যখন এই পূজা করত, তখন মৃৎশিল্পী অন্য দুর্গা প্রতিমার মত সাহা বাড়ির দুর্গা প্রতিমা করেছিলেন। কিন্তু পর দিন সকালে সবার নজরে আসে গণেশ ও কার্তিকের স্থান পরিবর্তন হয়ে গিয়েছে। বিষয়টি নজরে আসতেই মৃৎশিল্পী তাদের পুনরায় তাদের স্থান পরিবর্তন করেন।

কিন্তু পরের দিন সকালে গণেশ ও কার্তিকের আবার স্থান পরিবর্তন হয়ে যায়। এই দেখেই বনমালী সাহা রায় নির্দেশ দেন এভাবেই মায়ের পুজো হবে। সেই থেকে একই নিয়ম নিষ্ঠা সহকারে সাহা বাড়ির দুর্গা পূজা হয়ে আসছে।

এছাড়াও মন্থন ষষ্ঠীতে প্রতিমা তৈরি শুরু হয়। মহালয়ার দিনই মায়ের চক্ষুদান হয় ও প্রতিমার রং সব শেষ করতে হয়। তবে এবার মহালয়ার একমাস পর পুজো থাকায় মহালয়া দিন শুধুমাত্র চক্ষুদান করা হয়। ওই সময়ে রং করলে প্রতিমার রং নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে৷ তাই এবার শুধুমাত্র মায়ের চক্ষুদান করা হয়। এই পুজোয় অন্নভোগ হয় না। এখানে পরমান্ন ভোগ হয়। পুজোর কয়েকদিন নিরামিশ খাওয়ার হয়।

বনমালী সাহার বর্তমান উত্তরসূরি কালীকৃষ্ণ সাহা রায় জানান, বনমালী সাহা রায় এই পুজো শুরু করেন। ওনার সময় থেকে যে ভাবে মায়ের পুজো হয়ে আসছিল, এখন ঠিক একই ভাবে মায়ের পুজো হয়। পুজোর সব দিন মাকে নিরামিষ ভোগ দেওয়া হয় ও নিজেরা নিরামিষ খাওয়া হয়। এছাড়াও মায়ের ভোগ হিসেবে দুধের তৈরি নানা উপকরণ দেওয়া হয়। বংশ পরম্পরায় পুরোহিত, মৃত শিল্পী প্রতিমা তৈরি করে আসছেন।

এবিষয়ে সাহা পরিবারের সদস্য প্রিতম কৃষ্ণ সাহা রায় জানান, করোনার জন্য এবারের পুজোয় তেমন কোনো কাটছাঁট করা হয়নি৷ তবে একসঙ্গে পাঁচ জনের বেশি কেউ অঞ্জলি দিতে পারবে না এবং এবারে মিষ্টান্ন ভোগ কারও নেওয়া হবে না। শুধুমাত্র ফল-মূল ভোগ নেওয়া হবে। মন্দির প্রাঙ্গণে সকলকেই মাস্ক পড়ে আসতে হবে। এছাড়াও যাতে মন্দির চত্বরে ভিড় না হয় তার জন্য বিশেষ নজর রাখা হবে৷