Breaking News

মোদি এক নাটকবাজ, দিদি আরেক নাটকবাজ, দু’জনকেই সাম্প্রদায়িক আখ্যা দিয়ে জনসভায় বিঁধলেন অধীর রঞ্জন চৌধুরী

সংবাদ সারাদিন, মালদা: মোদি এক নাটকবাজ, দিদি আরেক নাটকবাজ। দু’জনকেই সাম্প্রদায়িক আখ্যা দিয়ে প্রকাশ্য নির্বাচনী জনসভায় এভাবেই বিঁধলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি তথা সাংসদ অধীর রঞ্জন চৌধুরী। অধীর বলেন, পশ্চিমবঙ্গে সাম্প্রদায়িক রাজনীতি চলছে। মুসলিম ভোট ও হিন্দু ভোটবাক্সের কথা ভেবে মোদি-দিদি দু’জনেই নাটক করছেন। কেউ খাতির করছেন মুসলিমদের তো কেউ হিন্দুদের খাতির করছেন। আর এর জেরে এ রাজ্যে সাম্প্রদায়িকতার বিষে বিভেদ তৈরি হচ্ছে। এছাড়া দিদি হাত ধরে এ রাজ্যে বিজেপিকে নিয়ে এসেছে, এমন অভিযোগও তুলেছেন অধীর। কংগ্রেস যতদিন কেন্দ্রে ক্ষমতায় ছিল ততদিন দেশে বা এ রাজ্যে সাম্প্রদায়িক ভেদাভেদ ছিল না বলেও দাবি করেন তিনি।

মঙ্গলবার মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুরের খন্তা মাঠে সংযুক্ত মোর্চার কংগ্রেস প্রার্থী মোস্তাক আলমের সমর্থনে জনসভার আয়োজন করা হয়। সেখানে অধীর ছাড়াও হাজির ছিলেন সিপিএম ও কংগ্রেস নেতারা। জনসভায় ভিড় দেখে খুশি অধীর বলেন, এই গরমে এত মানুষের ভিড় দেখে আমাদের আশা-প্রত্যাশার পারদ বাড়ছে। এরপরেই আগাগোড়া মোদি ও দিদিকে নিশানা করেন তিনি। দু’জনকেই নাটকবাজ বলে কটাক্ষ করার পাশাপাশি এ দেশে মুসলিমদের অবদান কতটা তাও তিনি তুলে ধরেন। অধীর বলেন, ৬৫ সালে পাকিস্থান পঞ্জাবের খেমকরণ সেক্টরে হানা দিয়েছিল। কীভাবে বীরত্বের সঙ্গে রুখে দিয়ে গুলিতে প্রাণ দিয়েছিলেন ভারতীয় সেনা আব্দুল হামিদ তা তিনি তুলে ধরেন। এ ছাড়া প্রয়াত প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি এপিজে আব্দুল কালাম, এ আর রেহমানের দেশের জন্য অবদানের কথা তুলে ধরে অধীর বলেন, যুগ যুগ ধরে আমরা একসঙ্গে বসবাস করছি! কোনও সমস্যা হয়নি। কিন্তু ভোটের সংকীর্ণ স্বার্থে, নির্বাচনে ভোট পাওয়ার হাতিয়ার হিসেবে মোদি-দিদি সেই সাম্প্রদায়িকতার বাতাবরণ তৈরি করেছেন। সংযুক্ত মোর্চা ক্ষমতায় আসলে সাম্প্রদায়িকতার বিষ উপড়ে ফেলা হবে বলেও তিনি দাবি করেন।

জনসভায় মুসলিমদের মন পেতে এমনও দাবি করেন অধীর যে, ইমামদের যে ভাতা দেওয়া হচ্ছে তা ওয়াকফ বোর্ডের আয় থেকে দেওয়া হচ্ছে! মাছের তেলে মাছ ভাজছে তৃণমূল। আগে ওয়াকফ থেকে কয়েকশো কোটি টাকা আয় হত। এখন তা কয়েক হাজারে দাঁড়িয়েছে। সেই টাকা লুঠ হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। তৃণমূলে কটাক্ষ করে অধীর বলেন, আমরা কয়লা, বালি এবং গোরু চুরি করি না। তাই কাউকে ভয় পাই না। শীতলকুচির সাম্প্রতিক ঘটনা নিয়ে তিনি আদালতে যাবেন, সিবিআইকে দিয়ে তদন্ত চাইবেন বলেও এদিন জানিয়েছেন তিনি।