ইটাহারের নিখোঁজ মূক ও মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তিকে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে সন্ধান পেল পরিবার

সংবাদ সারাদিন, দিবাকর মজুমদার, ইটাহার: সোশ্যাল মিডিয়া যে শুধু সময় কাটানোর বিষয় তা নয়, নিখোঁজ হয়ে যাওয়া স্বজনকেও এই সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে বাড়ি ফিরিয়ে দিতে পারে তা আরও একবার প্রমাণ হল উত্তর দিনাজপুর জেলার ইটাহারে। একটি ফেসবুক গ্রুপ ‘ইটাহার’স এনি ইনফরমেশন’-এর মাধ্যমে মূক ও মানসিক ভারসাম্যহীন নিখোঁজ বছর ৪০ এর মহবুব আলমের সন্ধান পেল ইটাহার থানার সোহাইর গ্রামের মহবুবের পরিবার। বর্তমানে মহবুব উত্তর ২৪ পরগনার হিঙ্গলগঞ্জ থানার কাঁটাখালি গ্রামের মানুষদের তত্বাবধানে আছে বলে জানা গেছে। মহবুবের খোঁজ পাওয়ায় খুশি মহবুবের পরিবার সহ গ্রামের বাসিন্দারা।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইটাহার থানার সোহাইর গ্রামের মূক ও মানসিক ভারসাম্যহীন মহবুব আলম হঠাৎ কয়েকমাস আগে একদিন তার সোহাইর গ্রাম থেকে নিখোঁজ হয়ে যায়। কিন্তু কে এই মহবুব? মহবুব বেশ কয়েক বছর আগেও আর ৫ টা সাধারণ মানুষের মত কাজ কর্ম করে স্বাভাবিক জীবন যাপন করত স্ত্রী ও এক কন্যা সন্তানকে নিয়ে। কিন্তু বছর তিন আগে মহবুব হৃদ রোগে আক্রান্ত হয়ে কথা বলার শক্তি হারিয়ে ফেলে। এরপর ধীরে ধীরে মানসিক ভাবেও অসুস্থ হয়ে পরে। তারপর সংসারে আর্থিক অনটন দেখা দিলে তার স্ত্রী কন্যা সন্তানটিকে নিয়ে পার্শ্ববর্তী গ্রামে বাপের বাড়ি চলে যায়। স্ত্রী অসুস্থ মহবুকে ছেড়ে চলে যাওয়ার পর গ্রামের মানুষরা দেখভাল করত মহবুবকে। আদর যত্নে ভালোই কাটছিল মহবুবের জীবন। কিন্তু হঠাৎ তিন মাস আগে ছন্দ পতন হয় ইটাহারের সোহাইর গ্রামে। মহবুবকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। গ্রামবাসী ও পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন জায়গায় নিখোঁজ মহবুবের খোঁজ খবর নিয়েও তার কোনও সন্ধান পায়নি। এক প্রকার আশা ছেড়ে দিয়েছিল সকলে। এই সময় ভীন জেলা উত্তর ২৪ পরগনার হিঙ্গলগঞ্জ থানার কাঁটাখালি গ্রামে নিখোঁজ মহবুব আছে বলে সোশ্যাল মিডিয়ার ফেসবুক গ্রুপ ‘ইটাহার’স এনি ইনফরমেশন’- এর মাধ্যমে ইটাহারের সোহাইর গ্রাম সহ পরিবারের লোক জানতে পারে।

মূলত, হিঙ্গলগঞ্জের এক বাসিন্দা জাকির হোসেনের মাধ্যমে খোঁজ মিলে বলে ফেসবুক গ্রুপ ‘ইটাহার’স এনি ইনফরমেশন’- এর এডমিন জ্যোতি আলম জানান, আমি ওই ব্যক্তির প্র‍য়োজনীয় তথ্য যাচাই করে আমার ফেসবুক গ্রুপে একটি পোষ্ট সেয়ার করে মহবুবের গ্রামে গিয়ে তার পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে মহবুবের খোঁজ পাওয়ার বিষয়টি জানায়। কিন্তু আমার এই গ্রুপ থেকে যে এই ভাবে কোন মূক ও মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তি যে তার পরিবারকে ফিরে পারে আমি তা ভাবি নি। আশাকরি সকলের প্রচেষ্টায় সে খুব তাড়াতাড়ি ইটাহারের সোহাইর গ্রামে তার বাড়ি ফিরে আসবে। ফলে আজ থেকে এই গ্রুপে সাধারণ মানুষের হয়ে কাজ করার ইচ্ছা আরঈ বেড়ে গেল। আমি খুব আনন্দিত।

উত্তর ২৪ পরগনার হিঙ্গলগঞ্জ থানার কাঁটাখালি গ্রামের স্বহৃদয় ব্যক্তি জাকির হোসেন বলেন, মাস খানেক আগে এই মূক ও মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তি হঠাৎ আমাদের গ্রামে আসে। এদিক ওদিক ঘুরে বেড়াচ্ছিল। সে আমাদের গ্রামের যে না তা বুঝতে পারি। গ্রামের চৌমাথার রাস্তার ধারে এক যাত্রী প্রতিক্ষালয়ে থাকত। গ্রামের লোকজনরাই তাকে খাওয়ার দাওয়ার দিত। কয়েকদিন আগে আমি তাঁর কাছে গিয়ে একটি রেশন কার্ড পাই। তাতে তার নাম ও ইটাহারের ঠিকানা লেখা ছিল। তারপরেই সেই ঠিকানা নেটে সার্চ করে “ইটাহার’স এনি ইনফরমেশন” নামে একটি ফেসবুক গ্রুপ দেখতে পাই। তখন গ্রামের কয়েজজনের সাহায্যে গ্রুপের এডমিনের মোবাইল নম্বরে ফোন করে নিখোঁজ মহবুবের কথা জানাই। মহবুব তার গ্রামে ফিরে গেলে আমাদেরও খুব ভালো লাগবে।

মহবুবকে ভিন জেলা থেকে উত্তর দিনাজপুর জেলার ইটাহারের সোহাইর গ্রামে ফিরিয়ে আনার জন্য ইটাহারের বিধায়কের কাছে যান মহবুবের প্রতিবেশী ও পরিজনরা। বিধায়ক মোশারফ হোসেন বলেন, আমি হারিয়ে যাওয়া ওই মূক ও মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তিকে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছি। আশা করছি খুব তাড়াতাড়ি তাঁকে গ্রামের মানুষের কাছে ফিরিতে দিতে পারব।

এই ভাবে মানুষের পাশে থেকে আগামীদিনে “ইটাহার’স এনি ইনফরমেশন”- ফেসবুক গ্রুপ ও তার এডমিন কাজ করুক এই আশা রেখে ইটাহারবাসী ফেসবুক গ্রুপ ও তার এডমিনকে কুর্নিশ জানিয়েছে।

Spread the love