প্রশাসনের যৌথ অভিযানে মিলল ভোজ্য তেলের কারখানার হদিশ, হরিশ্চন্দ্রপুরে বাজেয়াপ্ত নামী কোম্পানির স্টিকার ও মেশিন

সংবাদ সারাদিন, মালদা: ফের মালদার বেআইনি ভোজ্য তেলের কারখানার হদিশ। প্রশাসনের যৌথ অভিযানে মিলল কারখানার হদিশ। বেআইনি ভাবে ভোজ্য তেলের ব্যবসা নিয়ে নেটিজেনরা সরব হন সামাজিক মাধ্যমে। তারপরেই প্রশাসনের এই অভিযান। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার। যদিও বেআইনিভাবে ব্যবসার কথা অস্বীকার অভিযুক্ত ব্যবসায়ীর। মালদার চাঁচলের কান্ডারনের পর এবার হরিশ্চন্দ্রপুরের তুলসিহাটা। আবার অভিযান চালিয়ে বেআইনি ভোজ্য তেলের কারখানার হদিশ পেল প্রশাসন। তুলসিহাটায় ভোজ্য তেলের বেআইনি কারবার রমরমিয়ে চলছে বলে অনেকেই সরব হয়েছিলেন। তারপর শুক্রবার তুলসিহাটায় ওই সর্ষের তেলের কারখানায় অভিযান চালান মহকুমাশাসক সঞ্জায় পাল। মহকুমা শাসকের নেতৃত্বে ওই অভিযানে সঙ্গে ছিলেন হরিশ্চন্দ্রপুর-১ ব্লকের বিডিও অনির্বান বসু, চাঁচলের এসিএমওএইচ জয়ন্ত বিশ্বাস, ফুড সেফটি অফিসার আয়েশা খাতুন ও হরিশ্চন্দ্রপুর থানার পুলিশ।

লাইসেন্সে গরমিল ছাড়াও সেখানে নামীদামী কোম্পানির স্টিকার, স্টিকার তৈরির মেশিন, ব্লেন্ডিং তথা দুরকম ভোজ্য তেল মেশানোর মেশিন সহ আরও কিছু যন্ত্রপাতি বাজেয়াপ্ত করেছে প্রশাসন। সেগুলি পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। তেলের নমুনা সংগ্রহ করেছেন ফুড সেফটি অফিসার। পাশাপাশি পুলিশের কাছে কারখানার বেআইনি কাজের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়েছেন তিনি। যদিও প্রশাসনকে এড়িয়ে কীভাবে দিনের পর দিন বেআইনিভাবে ওই কারখানা চলছিল তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বেআইনি কারবারের কথা অবশ্য মানতে চাননি কারখানার মালিক।

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বাইরে থেকে ট্যাঙ্কারে করে ওই কারখানায় সর্ষের তেল নিয়ে আসা হয়। তারপর ওই তেল টিনে ভরে তাতে নামীদামী কোম্পানির স্টিকার লাগিয়ে তা বাজারে চড়া দামে বিক্রি করা হয়। এছাড়া প্রশাসন সূত্রে খবর, সরষের তেলের সঙ্গে অন্য কোনও তেল মেশানো তথা ব্লেন্ডিং করা সরকারি ভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে এক বছর আগে। কিন্তু ওই কারখানায় ব্লেন্ডিং মেশিন পাওয়া গেলেও মালিকের দাবি, নিষিদ্ধ করার পর আর তিনি ব্নেন্ডিং করেন না। যদিও ব্লেন্ডিং মেশিন দেখে প্রশাসনের সন্দেহ, এক বছর নয়, কয়েকদিন আগেই তা বন্ধ করা হয়েছে। চাঁচলের কান্ডারনে অভিযানের পরেই মালিক সতর্ক হয়ে তা বন্ধ করেছেন কি না তা প্রশাসন খতিয়ে দেখছে। কেননা ব্লেন্ডিং মেশিন পরীক্ষা করে সর্ষের তেল পাওয়া গিয়েছে। একবছর আগে ব্লেন্ডিং বন্ধ হলে মেশিনে তেল থাকার কথা নয় বলেই মনে করছে প্রশাসন। সেই তেলের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে বলে প্রশাসন জানিয়েছে। এছাড়া কারাখানার লাইসেন্সেও গরমিল রয়েছে বলে প্রশাসন জানিয়েছে! এমন কিছু খাদ্যপণ্য রাখা হয়েছে যার লাইসেন্স নেই। গীতা ট্রেডিং নামে তার ট্রেডিং লাইসেন্স রয়েছে। কিন্তু তিনি একাধিক নামীদামী ব্রান্ডের তেল বিক্রি করছেন বলেও প্রশাসন জানতে পেরেছে।

চাঁচলের মহকুমাশাসক সঞ্জয় পাল বলেন, কারখানায় বেআইনি কারবার চলছে জানতে পেরেই অভিযান চালানো হয়। বেশ কিছু বে-আইনি কারবারের বিষয় আমাদের নজরে এসেছে! নামী কোম্পানির স্টিকার, মেশিন সহ বেশ কিছু মেশিন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

ফুড সেফটি অফিসার আয়েশা খাতুন বলেন, ব্লেন্ডিং মেশিনে যে তেল পাওয়া গিয়েছে তার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করলেই তাতে অন্য তেল মেশানো রয়েছে কি না বোঝা যাবে। এছাড়া কারখানায় বেশ কিছু বেআইনি কারবারের কথাও আমরা জানতে পেরেছি।

চাঁচলের এসিএমওএইচ জয়ন্ত বিশ্বাস বলেন, শরীরের পক্ষে প্রচণ্ড ক্ষতিকারক বলেই ব্লেন্ডিং নিষিদ্ধ করা হয়েছে। খারাপ তেল কোলন ক্যানসারের অন্যতম কারণ।

যদিও কারখানার মালিক দিলীপ আগরওয়ালার দাবি, লাইসেন্স নিয়েই আগে ব্লেন্ডিং কারখানা চালাতাম। তবে নিষিদ্ধ হওয়ার পর তা বন্ধ করে দিয়েছি। যদিও নামী কোম্পানির স্টিকার, স্টিকার তৈরির মেশিন কেন পাওয়া গেল তা নিয়ে তিনি কোনও সদুত্তর দিতে পারেন নি।

প্রশাসনের উচিত এই ধরনের কারখানার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া। সরিষার তেল এমন একটি জিনিস যা প্রত্যেক মানুষের লাগে রান্নায়। তা যদি ভেজাল হয় মানুষের স্বাস্থ্যের পক্ষে হানিকারক হবে। বিভিন্ন ধরনের রোগ ছড়াবে। তাই প্রশাসনের উচিত দ্রুত উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া।

Spread the love