কালিয়াচকে বাবা-মা সহ পরিবারের ৪ জনকে খুনের অভিযোগে গ্রেফতার বাড়ির ছোট ছেলে

সংবাদ সারাদিন, মালদা: কলকাতার শেক্সপিয়ার সরণি সেই ঘটনাকে যেন মনে করাল। শনিবার সাতসকালে হাড় হিম করা খবর উঠে এলো মালদার কালিয়াচক থানার ১৬ মাইল এলাকা থেকে। মা-বাবা সহ পরিবারের ৪ জনকে নৃশংস ভাবে খুনের অভিযোগে গ্রেফতার বাড়ির ছোট ছেলে। শুধু খুন করায় নয় মৃতদেহ বাড়ির বেসমেন্টে পুতে রাখার অভিযোগ উঠেছে অভিযুক্ত যুবকের বিরুদ্ধে। দেহ এখনও উদ্ধার করা না হলেও ঘটনার তদন্তে নেমেছে পুলিশ। ছেলেটিকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছে কালিয়াচক থানার পুলিশ।

কালিয়াচক থানার ১৬ মাইল এলাকার গুরু টোলা গ্রামের এই ঘটনা। অভিযুক্ত নাম আসিফ মোহাম্মদ। অভিযুক্তর দাদা আরিফ মোহাম্মদের অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ আটক করেছে ভাই আসিফকে। আরিফের অভিযোগ মা-বাবা বোন ঠাকুমাকে খুন করে মাটিতে পুঁতে রেখেছে ভাই। পরিবারের চারজন হঠাৎ করে নিখোঁজ হয়ে যাওয়ায় সন্দেহটা হয়েছিল ভাইয়ের উপর। আর এই সন্দেহ থেকেই গোটা ঘটনা পুলিশের কাছে জানান আরিফ। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান আসিফের বাড়ির পাশেই একটি নির্মীয়মান গাড়ির গ্যারেজে পোতা আছে মৃতদেহগুলি।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বেশ কিছুদিন ধরেই এই পরিবারের সদস্যদের গ্রামে দেখা যাচ্ছিল না। অভিযুক্তকে জিজ্ঞেস করা হলেই সে জানাত বাবা-মা বাইরে গেছে। কিছুদিনের মধ্যেই বাড়ি ফিরে আসবে। কিন্তু নিজের বাবা মা বোন ঠাকুমাকেও এই ভাবে খুন করতে পারে এক ছেলে তা ভেবে পাচ্ছেন না স্থানীয় বাসিন্দারা।

অভিযুক্ত দাদা জানিয়েছেন, তার বাবা জাওয়াদ আলী, মা ইরা বিবি, বোন আরিফা খাতুন, ঠাকুমা আলেকজান বিবি নিখোঁজ হয়ে গেছিলেন। গ্রামের কোথাও তাদের খোঁজ মেলেনি। এদিকে ভাইয়ের হাবভাবও যথেষ্টই সন্দেহজনক ছিল। আরিফের অভিযোগ তার ভাই মানসিকভাবে অসুস্থ। ভাইয়ের এই স্বভাবের জন্যই আলাদা বাড়িতে থাকতেন তিনি। কিন্তু বাবা মা হঠাৎ করে নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার পরে ভাইয়ের উপর এই সন্দেহটা হয় তার। তখনই পুলিশে খবর দেন তিনি।

কালিয়াচক থানার পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তর ঘর তল্লাশি করে রীতিমতো চমকে যেতে হয়েছিল আমাদের। গোটা ঘরটাই একটা ছোটখাটো ল্যাবে পরিণত করা হয়েছিল। ঘরের মধ্যে লাগানো ছিল অসংখ্য সিসিটিভি ক্যামেরা। ৪ সাইটে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে মোবাইল ফোন ল্যাপটপ। অত্যাধুনিক বিভিন্ন ধরনের গ্যাজেট। পুলিশের অনুমান ব্যাংক একাউন্ট হ্যাক করার কাজ করত অভিযুক্ত আসিফ। ইন্টারনেট হ্যাকিং নিয়ে অনেক কিছুই তাঁর ঘর থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। তবে আসিফের কোন চক্রের সাথে যোগ আছে কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে । তবে কি কারণে অভিযুক্ত তার বাবা-মা বোন ঠাকুমাকে খুন করল তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে কালিয়াচক থানার পুলিশ।

Spread the love