দুঃস্থদের বদলে সরকারি ঘর পাচ্ছেন তৃণমূল নেতারা, কুমারগঞ্জে বিক্ষোভ দলীয় কর্মীদের

সংবাদ সারাদিন, কুমারগঞ্জ: সরকারি ঘর পাচ্ছেন শুধুমাত্র তৃণমূল নেতারাই। সাধারণ মানুষ সেই সরকারি ঘর থেকে বঞ্চিত। এনিয়ে বারংবার অভিযোগ জানালেও কোন সুরাহা হয়নি৷ তাই দলের নেতাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে গ্রাম পঞ্চায়েত ও বিডিও অফিসে বিক্ষোভ দেখাল তৃণমূল কর্মী সমর্থকরা৷ যদিও ঘটনার কথা অস্বীকার করেছে সাফানগর গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্যরা। অন্যদিকে পুরো বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন বলে কুমারগঞ্জের বিডিও ছেওয়াং তামাং জানিয়েছেন।

এদিন কুমারগঞ্জ ব্লকের সাফানগর গ্রাম পঞ্চায়েতের এলোন্দোরি গ্রামের বেশ কিছু সংখ্যক গ্রামবাসী আবেদন করেও সরকারি ঘর না পাওয়ার অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ দেখায় সাফানগর গ্রাম পঞ্চায়েত এবং কুমারগঞ্জ ব্লকের বিডিও অফিস চত্বরে। তৃণমূলের পতাকা হাতে নিয়ে কুমারগঞ্জের বিডিও অফিসে চত্বরে বিক্ষোভ দেখান দলীয় কর্মী সমর্থক থেকে গ্রামবাসী।

বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য স্থানীয় তৃণমূল নেতা তাদেরকে সরকারি ঘর পাইয়ে দেওয়ার নাম করে হাজার হাজার টাকা নিয়েও সরকারি ঘর পাইয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করেনি। এমনকি সরকারি ঘর শুধু নিজেরাই নিচ্ছেন। সেই সঙ্গে এদিন বিক্ষোভরত গ্রামবাসীদের এও অভিযোগ প্রকৃত গরিবরা সরকারি ঘর পাওয়া থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন নেই এরকম মানুষদের সরকারি ঘর পাইয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

এবিষয়ে বিক্ষোভরত এলোন্দোরি গ্রামের বাসিন্দা জাখিরুল সরকার বলেন, অনেকে দুবার করে বাড়ি পাচ্ছেন, কোন তদন্ত হচ্ছে না।

আনসার আলি মোল্লা অভিযোগ করে বলেন, “বিগত কয়েক বছর ধরে বারবার আবেদন করেও আমাকে বাড়ি দেয় না।” তিনি অভিযোগ করে বলেন স্থানীয় এক তৃণমূল নেতা বাড়ি দেওয়ার জন্য টাকা নিয়েও বাড়ি দিচ্ছে না, টাকাও ফেরত দিচ্ছে না।

এবিষয়ে তৃণমূল পঞ্চায়েত মেম্বার শ্যামলী মার্ডি জানিয়েছেন, প্রকৃত গরীব মানুষেরা ঘর পাচ্ছেন না এটা সঠিক। তবে টাকা তোলা হয়েছে কিনা সে বিষয়ে তার জানা নেই। ঘটনা জানিয়ে বিডিওকে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।

অন্যদিকে কুমারগঞ্জের বিডিও ছেওয়াং তামাং ফোনে জানিয়েছেন, পুরো বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

Spread the love