হরিশ্চন্দ্রপুর অঙ্গনওয়াড়ি সেন্টারে খাওয়ার বিলিকে কেন্দ্র করে বেনিয়মের অভিযোগ, ক্ষুব্ধ অভিভাবকদের বিক্ষোভ

সংবাদ সারাদিন, মালদা: ভোট মিটতে আবার মালদা হরিশ্চন্দ্রপুর থানা এলাকায় অঙ্গনওয়াড়ি সেন্টারে খাওয়ার বিলিকে কেন্দ্র করে বেনিয়মের অভিযোগ উঠল। বারবার এই ভাবে হরিশ্চন্দ্রপুর এলাকায় অঙ্গনওয়াড়ি সেন্টারে খাবার বিলিকে কেন্দ্র করে চূড়ান্ত বিশৃঙ্খলা জন্য সরাসরি দপ্তরের অধিকর্তাদের দায়ী করছেন এলাকার বাসিন্দারা। এদিকে অনিয়মিত খাওয়ার দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন অভিভাবকেরা ওই অঙ্গনওয়াড়ি সেন্টারে। অভিভাবকদের বিক্ষোভে ছড়াল উত্তেজনা। অভিযোগ তিন মাস ধরে খাওয়ার দেওয়া হচ্ছে না অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে। শুক্রবার খাবার দেওয়া শুরু হলেও তিন মাসের জায়গায় এক মাসের খাওয়ার দেওয়া হচ্ছে। যার জেরে ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা। নিজেদের বাচ্চাদের অধিকারের খাওয়ার দাবিতে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। যদিও অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীর দাবি যেভাবে খাওয়ার পাঠানো হয়েছে সেই ভাবেই দেওয়া হচ্ছে।

ঘটনাটি ঘটেছে মালদা জেলার হরিশচন্দ্রপুর ১ নং ব্লকের অন্তর্গত ৪ বিতল অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে। সরকারের পক্ষ থেকে প্রত্যেক অঙ্গনওয়াড়িতে বাচ্চাদের জন্য খাবার দেওয়া হয়। এই মুহূর্তে করোনার জন্য অঙ্গনওয়াড়িগুলি বন্ধ। ফলে মাসের একটি নির্দিষ্ট তারিখে বাচ্চাদের অভিভাবকদের হাতে বরাদ্দকৃত চাল, ডাল ও আলু দেওয়া হয়। কিন্তু অভিভাবকদের অভিযোগ বিতল অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে গত তিন মাস যাবৎ খাওয়ার দেওয়া হয়নি। শুক্রবার খাওয়ার দেওয়া হলেও মাত্র এক মাসের খাওয়ার দেওয়া হচ্ছিল। যার জন্য অভিভাবকরা ক্ষুব্ধ হয়ে বিক্ষোভ দেখান। তাদের দাবি সরকার এই খাওয়ার দিচ্ছে। তাই এই খাওয়ার পাওয়া তাদের ন্যায্য অধিকার। তারা তাদের অধিকার ছাড়বে না। তাদেরকে পুরো তিন মাসের খাওয়ার দিতে হবে। যদিও কেন তিন মাস খাওয়ার আসবে না সেই নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে অভিভাবকরা। একেই লকডাউন চলছে। সাধারণ গরিব পরিবারগুলি আর্থিক অনটন। অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীর দাবি খাওয়ার না আসায় দেওয়া হয়নি। তাই এ ক্ষেত্রে অনেকেই দফতরের কর্তাদের গাফিলতির অভিযোগ তুলছে বিক্ষুব্ধ অভিভাবকরা।

সারেগা বেগম নামে এক অভিভাবক বলেন,” তিন মাস ধরে খাওয়ার দিচ্ছিল না। আজ দিল তো তাও এক মাসের। মুখ্যমন্ত্রী আমাদের দিচ্ছেন। আমরা আমাদের অধিকার ছাড়ব না। আমাদেরকে তিন মাসের খাওয়ারই দিতে হবে।”

রেশমা খাতুন নামে আরেক অভিভাবক বলেন,” তিন মাস ধরে চাল দেওয়া বন্ধ। আমরা বাচ্চাদের সেই তিন মাসের খাওয়ার নিতে এসেছি। কিন্তু দিচ্ছে এক মাসের। দিদিমনিরা বলছে এটা ফেব্রুয়ারি মাসের খাওয়ার এসেছে। এখন জুন মাস চলছে। তাহলে বাকি মাসগুলো খাওয়ার কোথায় গেল? আমরা সম্পূর্ণ খাওয়ার নিয়েই যাব।”

অঙ্গনওয়াড়ির শিক্ষিকা সুমি দাস বলেন,” আইসিডিএস সেন্টার থেকে ফেব্রুয়ারি মাসের খাওয়ার এসেছে। আজ তাই আমি সেটাই দিচ্ছি। লাস্ট মার্চ মাসে দেওয়া হয়েছিল। অভিভাবকদের দাবি বাকি তিন মাসের দিতে হবে। কিন্তু আমার কাছে এক মাসেরই এসেছে। সুপারভাইজারকে এই নিয়ে আমি জানিয়েছি।”

ফোনে যোগাযোগ করা হলে হরিশ্চন্দ্রপুর ১ নং ব্লকের সিডিপিও অনুপ সরকার বলেন,” তিন মাস নয় চার মাসের বাকি রয়েছে। ডিপার্টমেন্ট থেকে জানুয়ারি মাসে চারটি গ্রাম পঞ্চায়েতের অঙ্গনওয়াড়িতে দেওয়া হয়েছিল। বাকিগুলো বাকি থেকে ছিল তাই পাইনি। এগুলি পৃথকভাবে আবার অর্ডার করা হচ্ছে। প্রত্যেকেই পাবে। অভিভাবকরা হয়তো এই ব্যাপারটা জানেন না তাই বিক্ষোভ দেখিয়েছেন।”

যদিও হরিশ্চন্দ্রপুরে অঙ্গনওয়াড়ির খাওয়ার নিয়ে অভিযোগ এই প্রথম নয়। এর আগেও সঠিক পরিমাণে খাওয়ার দেওয়ার বা নিম্নমানের খাদ্য দেওয়া নিয়ে অভিভাবকরা বিক্ষোভ দেখিয়েছে। উঠে এসেছে সংবাদমাধ্যমেও। এবার বাচ্চারা তাদের অধিকারের খাওয়ার কতদিন পর পাই সেটাই দেখার বিষয়। কারণ লকডাউনের জেরে সাধারণ পরিবারগুলিতে আর্থিক মন্দা চলছে। এই বাচ্চারা যতটা পরিমাণ চাল ডাল পায়। তাতেও সেই পরিবারগুলির অনেকটা উপকার হয়। প্রশাসনের উচিত এই ব্যাপারে নজর দেওয়া।

Spread the love