গঙ্গারামপুরে ফের প্রকাশ্যে তৃণমূলের গোষ্টিকোন্দোল, জখম ৭

সংবাদ সারাদিন, গঙ্গারামপুর: দক্ষিণ দিনাজপুরে ফের তৃণমূলের গোষ্টিকোন্দোল প্রকাশ্যে। গঙ্গারামপুর থানার হামজাপুর এলাকার ঘটনা। তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দলের জেরে সংঘর্ষ। আর সংঘর্ষে আহত উভয়পক্ষের ৭জন।ঘটনার পর আহতদের ভর্তি করা হয়েছে গঙ্গারামপুর সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে। এদিকে এমন ঘটনার পর এলাকায় দেখা দিয়েছে চাপা উত্তেজনা। এনিয়ে দুই পক্ষই গঙ্গারামপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে চলেছেন।

জানা গেছে, আহতরা হলেন ইয়াকুব আলী খান (৬৭) ও আইনউদ্দিন মিয়াঁ (৫০) বাড়ি হামজাপুর এলাকায়। অপরদিকে আহতরা হলেন লোকমান আলী (৪৫), আমজাত আলী (৪২), লিয়াকত আলী (৫০), লিটন আলী (২২) ও রবিউল ইসলাম (৩০)। সকলের বাড়ি হামজাপুর এলাকায়। স্থানীয় সূত্রে খবর ২১শের বিধানসভা নির্বাচনের আগে থেকেই হামজাপুর এলাকায় বিপ্লবপন্থী নামে পরিচিত লিয়াকত আলী ও গৌতমপন্থী ইয়াকুব আলী খানের মধ্যে বচসা চলছিল। নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা হতেই লিয়াকত আলীর বিরুদ্ধে দলবিরোধী কাজের অভিযোগ এনে তাকে বহিস্কার করে তৃণমূল কংগ্রেস। এরই মাঝে শুক্রবার রাস্তা দিয়ে চলাচল করা নিয়ে গৌতম পন্থী আইনুদ্দিন মিয়াঁকে মারধরের অভিযোগ ওঠে বিপ্লব পন্থী লিয়াকত আলীর লোকজনের বিরুদ্ধে।

শুক্রবার রাতে এই ঘটনা বিশাল আকার ধারণ করে। গতকাল রাতে কাজলতোর এলাকায় লাঠিসোটা নিয়ে উভয়পক্ষের লোকজন একে অপরের বিরুদ্ধে চড়াও হয়। ঘটনায় আহত হয়েছেন উভয়পক্ষের ৭জন। ঘটনার পর আহতদের উদ্ধার করে ভর্তি করা হয় গঙ্গারামপুর সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে। বর্তমানে সেখানেই চলছে তাদের চিকিৎসা। এমন ঘটনার পর থেকে এলাকায় রয়েছে চাপা উত্তেজনা। এদিকে রাতেই খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় গঙ্গারামপুর থানার পুলিশ।

এনিয়ে দুই তরফেই অভিযোগ দায়ের করা হবে বলে জানানো হয়েছে৷ অন্যদিকে গঙ্গারামপুর থানার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে অভিযোগ পেলে পুরো ঘটনা খতিয়ে দেখবেন।

এবিষয়ে আক্রান্ত তৃণমূল কর্মী লিয়াকত আলী জানান, তারা মন্ত্রী বিপ্লব মিত্র সমর্থক। আর যারা মেরেছে তারা বিজেপি কর্মী হলেও বর্তমানে তারা জেলা সভাপতি গৌতম দাস সমর্থক। ভোটের আগে তাদের সঙ্গে ঝামেলা হয়েছিল। গতকাল রাতে পূর্বপরিকল্পিত ভাবে তাদের উপর আক্রমণ চালায় অভিযুক্তরা৷ এনিয়ে তারা পুলিশের দ্বারস্থ হবেন। যদিও আর এক আক্রান্ত তৃণমূল কর্মী ইয়াকুব আলী বলেন, তারা প্রথম থেকেই তৃণমূল করেন। লিয়াকতকে দল থেকে বহিস্কার করা হয়েছিল ভোটের আগে দল বিরোধী কাজের জন্য। ভোটের আগে থেকেই তাদের উপর মাঝে মধ্যে চড়াও হত লিয়াকত সহ তার দলবল। গতকাল রাতে তারাই প্রথম আক্রমণ চালায়। তাদের বেশ কয়েকজন জখম হয়েছেন।

যদিও তৃণমূল জেলা সভাপতি গৌতম দাসের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করলে তিনি গোষ্ঠী কোন্দলের কথা উড়িয়ে দেননি। গৌতম দাস জানান এখন সবাই তৃণমূল বলে দাবি করেন। বিধানসভা নির্বাচনে যারা তৃণমূলকে হারাবার জন্য উঠে পরে লেগেছিল এখন তারাই নানা জায়গায় ঝামেলা করে বোঝাতে চাইছেন আমরাই আসল তৃণমূল কর্মী। যদিও মন্ত্রী তথা দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা তৃণমূল কংগ্রেস চেয়ারম্যান বিপ্লব মিত্রের কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি৷

অন্যদিকে পুরো ঘটনা খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছে গঙ্গারামপুর থানার পুলিশ।

Spread the love