ওঝার কেরামতিতে সাপে কাটা গৃহবধূর মৃত্যু, শোকের ছায়া মালদা গোবিন্দপুরে

সংবাদ সারাদিন, মালদা: ঘুমন্ত অবস্থায় সাপে কেটেছিল এক গৃহবধূকে। ওই গৃহবধূকে পরিজন সহ স্থানীয়রা হাসপাতালে না নিয়ে এসে ওঝার কাছে নিয়ে যায়। সেখানেই কয়েক ঘণ্টা ধরে চলে গুনি ওঝা কেরামতি। অবশেষে পরিস্থিতি খারাপ অবস্থায় গেলে দ্রুত গৃহবধূকে স্থানীয়রা মালদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসে এবং তারপরই মৃত্যু হল গৃহবধূর। শোকের ছায়া নেমে এসেছে এলাকায়।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত গৃহবধূর না বিজলী সর্দার(৩৪)। বাড়ি মালদা গোবিন্দপুর এলাকায়। স্বামী কান্দ্রু সর্দার। সে বর্তমানে শ্রমিকের কাজে ব্যাঙ্গালুরুতে রয়েছে। তার আত্মীয়রা জানান, বিজলী তার দুই ছেলেকে নিয়ে বাড়িতে থাকতেন। রাত্রিবেলা ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন সেই সময় একটি বিষধর সাপ বিজলীর হাতে কামড় দেয়। ঘটনায় তার চিৎকার চেঁচামেচি শুনে প্রতিবেশীরা কোন রকমে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয়রা গুনি ওঝার কাছে নিয়ে যায়। সেখানে ওঝা কেরামতি করতে থাকলে গৃহবধূর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে পাশের গ্রামের আরেক ওঝার কাছে নিয়ে যায়। কিন্তুু সেখানেও তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। এই পরিস্থিতিতে ওই গৃহবধূকে গ্রামের মানুষ মালদা মেডিকেলে নিয়ে আসলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করে। ইতিমধ্যে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠিয়ে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন মালদা বিজ্ঞান মঞ্চ। মালদা বিজ্ঞান মঞ্চের সম্পাদক সুনীল চন্দ্র দাস সংবাদমাধ্যমের কাছ থেকে খবরটা জানতে পারলাম ওল্ড মালদায় এক গৃহবধূকে সাপে কেটেছিল কিন্তু স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে হসপিটালে না নিয়ে গুনি ওঝার কাছে নিয়ে যায়। আজকের সঠিক সময়ে ওই গৃহবধূকে হাসপাতালে নিয়ে আসলে সে বেঁচে যেত। বিজ্ঞান মঞ্চের কর্মীরা সব সময় মানুষকে সচেতন করছে কিন্তু তার পরেও কিছু মানুষ কুসংস্কারকে এখনও বিশ্বাস করে যাচ্ছে। যা শুনে আমাদের খুব লজ্জা বোধ হচ্ছে মালদা জেলা বিজ্ঞান মঞ্চ হাজার ১৯৮৭ সাল থেকেই এ কুসংস্কার বিরোধী নিয়ে গোটা জেলা জুড়ে আন্দোলন করে যাচ্ছে মানুষকে সচেতন করতে তারপরও এরকম অসচেতনতা প্রভাব পরল ওল্ড মালদা ব্লকে। আমরা এই বিষয়ে আরও বেশি ভাবে মানুষকে সচেতন করব।

Spread the love