শিকল বন্দি দশায় দিন কাটছে দাসপুরের এক শিশুর

সংবাদ সারাদিন, পশ্চিম মেদিনীপুর: বারান্দায় পায়ে শিকলে লাগিয়ে বাঁধা নাবালক। এমনকি ওই নাবালকের দিদিকেও অধিকাংশ সময় শিকল দিয়ে একই ভাবে বেঁধে রাখাতে হয় তার ভাই এর পাশে। কেন ওই নাবালককে এই ভাবে বেঁধে রাখা হচ্ছে? তার পরিবারের সদস্যদের দাবি ভাগ্যের পরিহাস কিচ্ছু করার নেই, ওরা যে দুজনেই উন্মাদ। তাই ওদের এই ভাবে বেঁধে রাখতে হয়েছে, এমনই জানাচ্ছেন তাদের মা সোমা রায়।

জানা যায়, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার দাসপুর থানার হরিরামপুরের বাসিন্দা অভিজিৎ রায় ও তার স্ত্রীর সোমার উন্মাদ এক ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে দিন আনা দিন খাওয়া সংসার।
এদিকে দিন যত গড়ায় ধীরে ধীরে উন্মাদ দুই ছেলে বড় হতে শুরু করে আর তাদের দৌরাত্ম্য ততোই বাড়ছে। অগত্যা কোন উপায় না দেখে সেই দুই সন্তানকে শিকল দিয়ে বাড়ির মধ্যে বেঁধে রাখতে হয় বলে জানায় তারা।
দরিদ্র পরিবারের হওয়ায় ছেলেমেয়েদের সঠিক চিকিৎসা না করাতে পারায় সুস্থ হয়নি। তাই চিকিৎসকদের ওপর হাল ছেড়ে দিয়ে তারা এখন ঠাকুর দেবতার দ্বারস্থ হয়েছে বলে জানা যায়।

টলি চালিয়ে সংসার চালায় অভিজিৎ, তাই তারা সেই পরিমাণে ভালো কোন চিকিৎসা করাতে পারছে না ছেলে মেয়ের। তাই তারা তাদের ৮ বছরের বয়সী কৌশিক ও তার দিদি কাঞ্চনা কে এইভাবে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখে ।
তাদের একটাই দাবি যদি প্রশাসন তাদের জন্য কিছু করে তাহলে হয়তো তারা তাদের সন্তানের চিকিৎসা করাতে পারবে। ঠিক কীভাবে শিকলবন্দি দশায় দিন কাটছে শিশুর সেই চিত্রই উঠে এসেছে দাসপুরের রাজনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত হরিরামপুর এলাকায়। বিষয় টি জানাজানি হলে বৃহস্পতিবার হরিরামপুরে গেলেন রাজনগর গ্রাম পঞ্চায়েত এর প্রধান ও আধিকারিক । এলাকার পঞ্চায়েত প্রধান অরুণ দোলুই কার্যত নিজে হাতে খুলে দিলেন শিশুর পায়ের বাঁধা শেকল। পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাসও দিলেন তিনি। শিশু ও তার দিদির চিকিৎসার বন্দোবস্ত করা যায় সে বিষয়েও ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

রাজনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের সচিব মহাদেব প্রধান জানিয়েছেন, আগামী মাস থেকেই ওই দুই শিশু যাতে মানবিক ভাতা পায় সে বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি পঞ্চায়েতের তরফেও তুলে দেওয়া হবে আর্থিক সাহায্য। পঞ্চায়েতের প্রধান ও আধিকারিকদের এই আশ্বাসবাণীর পর শিকলবন্দি দশা থেকে মুক্তি মিলবে কি শিশুটির! সেটাই এখন দেখার।

Spread the love