HS-এ ৯২ শতাংশ নম্বর, উচ্চশিক্ষার পথে বাঁধা অর্থ; সাহায্যের আর্জি পরিবারের

সংবাদ সারাদিন, ইটাহার: দিনমজুর বাবার ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে পড়াশুনার দৃঢ় ইচ্ছাকে পাথেয় করে উচ্চ মাধ্যমিকে ৯২ শতাংশ নাম্বার পেল ইটাহারের অসিত পাল। চরম আর্থিক অনটনকে পিছনে ফেলে এমনি তাক লাগানো রেজাল্ট করে সাফল্য অর্জন করেছে উত্তর দিনাজপুর জেলার ইটাহার ব্লকের বোষ্টমতলা গ্রামের দিনমজুর অনুপ পালের ছেলে অসিত পাল।

জানা যায়, বাবা অনুপ পাল দিনমজুর ও মা মুক্তি পাল গ্রামের রাস্তার পাশে ছোট একটা চায়ের দোকানের পাশাপাশি মুদির দোকান চালান। অসিত রাজগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ের কলা বিভাগের ছাত্র। আর্থিক অনটনের জেরে বাবা অসিতকে মাধ্যমিক পরীক্ষার পর সাফ জানায় আর পড়াতে পারবে না। দিনমজুরি করে ২ ছেলে মেয়ে সহ চার জনের পেট চালাতে হিমসিম খাচ্ছিলেন অনুপ বাবু। ফলে সংসার চালাতে ছেলেকে জমিতে কাজ করে পাশে থাকার কথা বলেন অনুপ বাবু। কিন্তু ছেলের পড়াশুনা করার অদম্য ইচ্ছার কাছে হার মেনে আধপেটা থেকে দিনমজুর বাবা কষ্ট করে পড়ার খরচ চালান। পাশাপাশি এই পরিবারের কষ্টের দিকে তাকিয়ে গ্রামের বাসিন্দাদের সহযোগিতায় গ্রামের রাস্তার পাশে একটি ছোট চা-এর দোকানের সঙ্গে সামান্য মুদির সামগ্রী দিয়ে দোকান খুলে দেয়। সেই দোকানে মায়ের সাথে পড়াশুনার ফাঁকে সাহায্য করে ছেলে অসিত।

পাশাপাশি বাবার সাথেও জমিতে দিনমজুরের কাজ করত অসিত। বাবা মাকে সর্বত ভাবে সাহায্য করে চরম আর্থিক অনটনের মধ্যেও রাজগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র অসিত পাল এই বছর উচ্চ মাধ্যমিকে ৪৬৩ নম্বর পেয়ে দুঃস্থ বাবা মায়ের কষ্টের মান রেখেছে ইটাহারের কৃতী ছাত্র অসিত পাল। তার সাফল্যে গর্বিত স্কুলের শিক্ষক শিক্ষিকা থেকে শুরু করে এলাকার বাসিন্দারা। প্রথমে ছেলেকে পড়াতে না চাইলেও ছেলের রেজাল্ট রেখে গর্বে চোখে জলে ভাসছে অসিতের বাবা মা। আগামী দিনে একটা চাকরি করে দিন মজুর বাবা মায়ের কষ্ট দূর করে সংসারের হাল ধরবে ছেলে অসিত পাল আশা দেখছে বাবা অনুপ ও মা মুক্তি পালের চোখে। বর্তমানে ছেলেকে উচ্চ শিক্ষিত করতে তারা বাবা মা আর কষ্ট করে পড়াশুনা করাবে বলে জানান। এখন বাংলা অনার্শ নিয়ে স্নাতক স্তরে পড়তে চাই। কিন্তু তার উচ্চ শিক্ষার পথে যাতে আর্থিক অনটন কোন ভাবে বাঁধা না হতে পারে তাই সরকারি বা বেসরকারি ভাবে সাহায্যের আর্জি জানিছেন ইটাহার ব্লকের বোষ্টমতলা গ্রামের কৃতী ছাত্র অসিত পাল সহ তার পরিবার।

Spread the love