সততার নজির, বালুরঘাটে কুড়িয়ে পাওয়া টাকা ও সোনার ব্যাগ মালিক হাতে তুলে দিলেন সিভিক ভলেন্টিয়ার

সংবাদ সারাদিন, বালুরঘাট: রাস্তায় কুড়িয়ে পাওয়া টাকা ও সোনার ব্যাগ ফেরত দিয়ে সততার নজির গড়লেন বালুরঘাট থানার কর্মরত এক সিভিককর্মী। ওই সিভিক কর্মীর নাম গোপাল চন্দ্র মন্ডল৷ রবিবার দুপুরে বালুরঘাট থানার পক্ষ থেকে টাকা ও সোনার ব্যাগের মালিকের হাতে তুলে দেওয়া হয়৷ যেখানে হাজির ছিলেন বালুরঘাট থানার আইসি শান্তিনাথ পাঁজা সহ অন্যান্য পুলিশকর্মীরা। ব্যাগ ফেরত পেয়ে ওই সিভিক কর্মী এবং বালুরঘাট থানা পুলিশকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন অসিত সরকার নামে ওই সোনার কারিগর।

জানা গেছে, এদিন সকালে বালুরঘাট থানা মোড়ে টাকা ও সোনার ব্যাগ পড়ে যায় বালুরঘাট চকভৃগু এলাকার পেশায় সোনার কারিগর অসিত সরকারের। কিছু দূর গিয়ে মোটর সাইকেল ব্যাগ নেই বিষয়টি নজরে আসে। এরপরই খোঁজাখুঁজি শুরু করেন ব্যাগের জন্য অসিত সরকার বলে এক সোনার কারিগর। ঘন্টাখানেক খোঁজাখুঁজির পর জানতে পারেন তার সোনার ব্যাগটি বালুরঘাট থানা মোড় এলাকায় এক ভবঘুরে পায়। এবং পরে সেই ব্যাগটি স্থানীয় একটি চায়ের দোকান থেকে নিয়ে বালুরঘাট থানায় জমা করেন কর্মরত এক সিভিক ভলেন্টিয়ার। কারণ ব্যাগে টাকা ও সোনা ছিল। সেই জন্য ব্যাগটি থানায় জমা দেন গোপাল চন্দ্র মন্ডল নামে বালুরঘাট থানার অধীনস্থ এক সিভিক। এদিকে পরে বালুরঘাট থানার দ্বারস্থ হন অসিতবাবু। এরপর বালুরঘাট থানার আইসি শান্তিনাথ পাঁজার উপস্থিতিতে সম্পূর্ণ তথ্য খতিয়ে দেখে ব্যাগের মালিক অসিত সরকার হাতে টাকা ও সোনা তুলে দেওয়া হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে হারিয়ে যাওয়া ব্যাগে নগদ প্রায় ১৯ হাজার টাকা ও বেশ কয়েক ভরি সোনা ছিল। টাকা ও সোনার ফেরত পেয়ে এবং বালুরঘাট থানার পুলিশকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন সোনার দোকানের কারিগর অসিত সরকার।

এবিষয়ে অসিতবাবু বলেন, তার ব্যাগটি আজ সকালে মোটরসাইকেল থেকে পড়ে যায়। অনেক খোঁজাখুঁজির পর জানতে পারেন ব্যাগটি থানায় রয়েছে। এরপর থানায় এসে জানতে পারেন ওই ব্যাগটি থানায় জমা দিয়েছেন এক সিভিক কর্মী। পরে পুলিশের তরফে সেই ব্যাগটি তার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।

এবিষয়ে বালুরঘাট থানার কর্তব্যরত সিভিক ভলেন্টিয়ার গোপাল চন্দ্র মন্ডল বলেন, আজ থানা মোড় সংলগ্ন একটি চায়ের দোকান চা খাওয়ার সময় দেখেন রাস্তায় পড়ে থাকা একটি উঠিয়ে এক ভবঘুরে তা রাস্তার পাশে রাখেন। এর পর সেখান থেকে ব্যাগটি পাশের চায়ের দোকানে নিয়ে আসা হয়। সেখানে ব্যাগটি খুলে দেখতেই ভেতরে অনেল টাকা ও সোনা রয়েছে লক্ষ্য করেন। এরপর তিনি সিদ্ধান্ত নেন ব্যাগটি বালুরঘাট থানায় জমা দেবেন। পরের মালিকের হাতে সোনা ও টাকা সহ অন্যান্য কাগজ তুলে দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে এবিষয়ে বালুরঘাট থানার আইসি শান্তিনাথ পাঁজা বলেন, বালুরঘাট থানার কর্তব্যরত সিভিক কর্মী সকালে ব্যাগটি কুড়িয়ে পান। এরপর সম্পূর্ণ নথি খতিয়ে দেখে তার আসল মালিকের হাতে টাকা ও সোনা তুলে দেওয়া হয়েছে। ব্যাগে প্রায় ১৯ হাজার টাকা ছিল। এছাড়াও সোনাও ছিল৷ সবই তুলে দেওয়া হয়েছে।

Spread the love