কটুক্তির প্রতিবাদ করায় ছুরিকাহত মা ও ছেলে, বালুরঘাটে গ্রেফতার অভিযুক্ত

সংবাদ সারাদিন, বালুরঘাট: কটুক্তির প্রতিবাদ করায় ছুরিকাহত হলেন মা ও ছেলে। আক্রান্তদের নাম স্বপ্না সরকার মহন্ত ও শীর্ষেন্দু মহন্ত। শনিবার রাতে চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে বালুরঘাট শহরের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মহন্তপাড়া এলাকায়। ঘটনায় গ্রেফতার মূল অভিযুক্ত গৌরাঙ্গ মহন্ত। এদিকে ছুরিকাহত হয়ে বালুরঘাট সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল ভরতি ছিল মা ও ছেলে। রবিবার দুপুরে বালুরঘাট হাসপাতাল থেকে ছুটি পান তারা। তারপর বাড়ি আসেন। এদিকে গতকাল রাতেই বালুরঘাট থানায় গৌরাঙ্গ মহন্ত সহ মোট তিন জনের নামে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে আক্রান্তের পরিবার। অভিযোগ পেতেই রবিবার ভোরে গৌরাঙ্গ মন্ডলকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাকে পাঁচ দিনের পুলিশি হেফাজত চেয়ে বালুরঘাট জেলা আদালতে পাঠিয়ে পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ঘটনায় অভিযুক্ত আরো দু’জন বিশ্বচন্ডী মহন্ত ও রকি মহন্ত পলাতক।

জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরেই এলাকার দুই মহিলাকে দেখে কটুক্তি করত প্রতিবেশী গৌরাঙ্গ মহন্ত। পেশায় তিনি ব্যবসায়ী। শনিবার রাতে ফের এলাকার দুই মহিলাকে দেখে কটুক্তি করে অভিযুক্ত ব্যক্তি৷ এই ঘটনার প্রতিবাদ করে স্বপ্না সরকার মহন্ত ও তার ছেলে শীষেন্দু মহন্ত। এনিয়ে কথা কাটাকাটি হয়ে তাদের। অভিযোগ, সেই সময় গৌরাঙ্গ বাড়ি থেকে সবজি কাটা ছুরি নিয়ে এসে শীষেন্দু ও তার মা স্বপ্নাদেবীর পেটে চালিয়ে দেয়। আটকাতে গেলে স্বপ্নাদেবীর আঙুলও কেটে যায়৷ বিষয়টি নজরে আসতে দ্রুত আহত মা ও ছেলেকে চিকিৎসার জন্য বালুরঘাট সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এদিকে ঘটনার পর ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় মূল অভিযুক্ত গৌরাঙ্গ মহন্ত ও তার দুই ভাইপো বিশ্বচন্ডী মহন্ত ও রকি মহন্ত। এদিকে গতকাল গভীর রাতে বালুরঘাট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে আক্রান্তের পরিবার। মোট তিনজনের নামে লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়। অভিযোগ পেতেই এদিন ভোরে মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তবে ঘটনায় আর দু’জন অভিযুক্ত পলাতক৷

এদিকে রবিবার দুপুরে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পায় জখম মা ও ছেলে৷ ছুরি চালানোর ঘটনায় মায়ের চারটি সেলাই পড়েছে। বর্তমানে তাদের চিকিৎসা চলছে। এদিকে অভিযুক্ত গৌরাঙ্গ মহন্তকে রবিবার বালুরঘাট জেলা আদালতে তোলা হয়েছে। পুরো ঘটনার তদন্তের জন্য অভিযুক্তকে ৫ দিনের পুলিশি হেফাজতের জন্য আবেদন জানিয়েছে পুলিশ। পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে বলে বালুরঘাট থানার আইসি শান্তিনাথ পাঁজা জানিয়েছেন।

এই ঘটনায় জখম স্বপ্না সরকার মোহন্ত এবং তার ছেলে শীর্ষেন্দু মহন্ত বলেন, করার প্রতিবাদ করায় তাদেরকে ছুরিকাহত হতে হয়েছে। এনিয়ে থানায় অভিযোগ জানিয়েছিলেন। অভিযুক্তদের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

অন্যদিকে বিষয়টি জানার পর ওই এলাকায় যান বলে ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পিন্টু দাস জানিয়েছেন। পাশাপাশি পুরো ঘটনা খতিয়ে দেখার জন্য পুলিশ প্রশাসনকে অনুরোধ করেছেন। এলাকায় শান্তি বজায় রাখার জন্য সকলের কাছে আবেদন জানিয়েছেন তিনি।

Spread the love