পুজার মুখে বালুরঘাটে খাওয়ার মান যাচাই করতে রেস্টুরেন্ট ও হোটেলে অভিযান চালালো স্বাস্থ্য দফতর

সংবাদ সারাদিন, বালুরঘাট: পুজার আগে বালুরঘাট শহরে ব্যাঙের ছাতার মত গজিয়ে উঠছে রেস্টুরেন্ট, হোটেল ও খাওয়ার দোকান। অভিযোগ, বেশিরভাগ জায়গাতেই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে রান্না হচ্ছে। এছাড়াও ভেজাল তেল ও নিম্নমানের মশলা জাতীয় খাওয়ার ব্যবহার করা হচ্ছে। তাই পুজার মুখে খাওয়ারের মান যাচাই করতে অভিযানে নামল স্বাস্থ্য দপ্তর। ইতিমধ্যেই নিম্নমানের খাওয়ারের জন্য বালুরঘাট শহরের বেশকিছু দোকানকে নোটিস দিয়ে সতর্ক করা হয়েছে। অন্যদিকে, গঙ্গারামপুরে ভেজাল তেল মেশানোয় এক দোকানকে জরিমানাও করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। নিম্ন মানের এই খাওয়ারের বিরুদ্ধে এই অভিযান পুজোর মধ্যেও চলবে বলে জানা গিয়েছে।

জানা গিয়েছে, দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার সদর শহর বালুরঘাটের আনাচে কানাচে ব্যাঙের ছাতার মত রেস্টুরেন্ট ও খাওয়ারের দোকান চালু হয়েছে। বিশেষ করে প্রতিবার পুজোর মুখে এমন বহু রেস্টুরেন্ট ও খাওয়ারের দোকান খোলা হয়। এবছরও বহু রেস্টুরেন্ট ও খাওয়ারের দোকান খোলা হয়েছে। অনেক সময় দেখা যাচ্ছে, বালুরঘাট ছাড়াও গঙ্গারামপুর ও বুনিয়াদপুরে রেস্টুরেন্ট ও হোটেলগুলির খাওয়ারের মান অতি নম্নমানের হয়। যার ফলে নানান অভিযোগ উঠে আসে। অনেকে সেগুলি খেয়ে অসুস্থও হয়ে পড়ছে। যার ফলে সেই খাওয়ারের মান যাচাই করার কেউ থাকে না। যার ফলে নিজেদের মত করে কিছু ব্যবসায়ীরা ভেজাল তেল মশলা ও বাসি মাছ মাংস ব্যবহার করে। যার ফলে বাসিন্দাদের শারীরিক নানা ধরনের ক্ষতি হয়। যার ফলে এই অভিযান শুরু হয়েছে। স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, খাওয়ারের দোকানের পাশাপাশি তেলের মিল ও নানা ধরনের ভোজ্য তেল ও খাওয়ারের মিলেও নজর রাখা হচ্ছে। ভেজাল বা নিম্নমানের অভিযোগ পেলেই জরিমানা করা হবে বলে জানিয়েছে।

এবিষয়ে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার অতিরিক্ত জেলাশাসক সাধারণ বিবেক কুমার বলেন, খাওয়ারের গুনমান যাচাই করতে জেলাজুড়ে একটি অভিযান চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পুজোর মুখে জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের তরফে এই অভিযান চলছে।

দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের সিএমওএইচ ২ দেবাশিস পাল বলেন,
জেলাজুড়ে শহর ও গ্রামীণ এলাকাগুলিতে বহু খাওয়ারের দোকান হয়েছে। সেই সব খাওয়ারের গুণগত মান যাচাই করতে অভিযান শুরু হয়েছে। পুরসভা ও পুলিসের সহযোগিতায় এই অভিযান চলছে। কিছু দোকানে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে রান্না চলছে। তাদের নোটিশের মাধ্যমে সতর্ক করা হয়েছে। এছাড়াও এক দোকানে জরিমানা করা হয়েছে। নিয়মিত এই অভিযান চলবে।

বালুরঘাট পুরসভার চেয়ারম্যান ইন কাউন্সিলর মহেশ পারখ বলেন, পুজার সময়ে বহু মানুষ বাইরের খাওয়ারের উপরেই নির্ভর করে। তাই সেইসব খাওয়ার যাতে ভালো থাকে। তাই এই অভিযান শুরু হয়েছে। পুজোর মধ্যেও এই অভিযান চলবে।

এবিষয়ে বালুরঘাট শহরের এক রেস্টুরেন্টের মালিক জগন্নাথ দত্ত বলেন, আমাদের রান্নার জায়গা থেকে শুরু করে খাওয়ার সবই স্বাস্থ্যকর ও পরিষ্কার পরিছন্ন। আমাদের দোকানে তদন্তকারী দল এসেছিল। নানা ধরনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তা মেনে চলব।

বালুরঘাটের এক বাসিন্দা মৃত্যুঞ্জয় সরকার বলেন, অনেক রেস্টুরেন্ট ও হোটেলের খাওয়ার ভালো। কিন্তু এমন অনেক রেস্টুরেন্ট রয়েছে। সেখানকার খাওয়ার একেবারেই ভালো নয়৷ নানারকম ভেজাল তেল ও খাওয়ার মিশিয়ে সেগুলি রান্না করা হয়। যার ফলে আমাদের অনেক ক্ষতি করে। তাই পুজার আগে এই অভিযান খুব প্রয়োজন ছিল। এই অভিযান যাতে নিয়মিত চলে।

Spread the love